।।বিকে রিপোর্ট।।
খাগড়াছড়ি পৌর শহরে এখনো বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা। জেলা সদর পৌরসভা ও গুইমারা উপজেলায় ১৪৪ ধারা অব্যাহত রয়েছে।
মঙ্গলবার ৩০ সেপ্টেম্বর ও জেলায় থমথমে পরিস্থিতি । শহর ও শহরতলীতে কঠোর নিরাপত্তা প্রদান করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অতিরিক্ত নিরাপত্তার স্বার্থে জেলা পুলিশের পাশাপাশি ৩ প্লাটুন আর্মড পুলিশ ও ৭ প্লাটুন বিজিবি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ছাড়া সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে দিচ্ছে না। অবরোধের কারনে খেটে খাওয়া মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
এদিকে নতুন করে জুম্ম ছাত্র জনতার ব্যানারে তিন পাবর্ত্য জেলায় সড়ক অবরোধের ডাক দেয়া হয়।
তবে অপর দিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা। আর খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার জানান আপাতত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
এদিকে রবিবার গুইমারা উপজেলায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত তিনজনের পরিচয় মিলেছে : কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় বিক্ষোভ ও সহিংসতাকে কেন্দ্র করে নিহত তিনজনের পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নের দেবলছড়ি চেয়ারম্যান পাড়ার আথুই মারমা (২১), হাফছড়ি ইউনিয়ন সাং চেং গুলি পাড়ার আথ্রাউ মারমা (২২) ও রামেসু বাজার বটতলা এলাকার তৈইচিং মারমা (২০)।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজও শিহরের জিরো মাইল, কলেজ গেট এলাকা, শহরের দক্ষিণ মাথাসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। কাউকে সন্দেহ হলে করা হচ্ছে জিজ্ঞাসাবাদ।
আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা বাহিনী গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে। ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া নাইট কোচগুলো নিরাপদে খাগড়াছড়ি পৌঁছেছে।
এদিকে খাগড়াছড়িতে চলমান নানা ঘটনা ও সহিংসতার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন খাগড়াছড়ি বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. আবদুল মোত্তাকিম। গতকাল বিকালে জেলা সদরের স্বনির্ভর এলাকায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এখানে পাহাড়ি-বাঙালি কোনো ভেদাভেদ নেই। আমরা সবাই মিলে সকলের জন্য কাজ করছি। যারা সন্ত্রাসী কর্মকা করছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।
শহরে সেনাবাহিনী, পুলিশ-আনসারের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছেন। বিজিবির ১০ প্লাটুন সদস্য শহরের বিভিন্ন জায়গায় দিনে ও রাতে সার্বক্ষণিক টহল পরিচালনা করছেন।
এ সময় ৩২ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরান কবির উদ্দিন, সহকারী পরিচালক মো. হাসানুজ্জামান, সেক্টর সদর দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. ইউনুস আলীসহ অনান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসংগত, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রাইভেট পড়া শেষে ফেরার পথে অষ্টম শ্রেণির এক মারমা কিশোরী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পরের দিন সকালেই সেনাবাহিনীর সহায়তায় সন্দেহভাজন যুবক শয়ন শীল নামে যুবকে আটক করে পুলিশ। বর্তমানে তাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
এরই মাঝে উক্ত ঘটনার জেরে কয়েকদিন ধরে খাগড়াছড়ির বিভিন্নস্থানে পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। হামলা-পাল্টা হামলায় কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুইমারা উপজেলায় সৃষ্ট সহিংসতায় ৩ জন নিহত হন। পুলিশ,সাংবাদিক, সেনাবাহিনীসহ আহত হন অর্ধশতাধিক। বাড়িঘর, দোকানপাঠ এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
এ পরিস্থিতিতে খাগড়াছড়ি পৌরসভা, সদর উপজেলা ও গুইমারা এলাকায় প্রশাসন জারি করা ১৪৪ ধারা এখনো বহাল রয়েছে।