।। বিকে ডেস্ক ।।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ১১ ঘণ্টা সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় রাস্তায় ট্রাক রেখে ব্যারিকেড এবং কালভার্ট ও নালার স্ল্যাব ভেঙে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, অভিযানের খবর আগেই পেয়ে এসব বাধা তৈরি করে সন্ত্রাসীরা।
সোমবার ৯ মার্চ সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবিসহ যৌথ বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নিয়েছেন।
পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান বলেন, ছিন্নমূল এলাকায় পৌঁছানোর পর আলীনগরে ঢোকার আগে রাস্তায় একটি ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল। পরে বাহিনীর সদস্যরা সেটি সরিয়ে সামনে এগিয়ে যান। কিছু দূর এগোনোর পর দেখা যায় একটি কালভার্ট ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরে ইট-বালি দিয়ে সেটি সাময়িকভাবে ভরাট করে যৌথ বাহিনীর গাড়ি আলীনগরে প্রবেশ করে।
অভিযানের মুখে জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকার ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন পালিয়ে গেছেন। ইয়াসিন গত জানুয়ারিতে অভিযানে যাওয়া র্যাবের এক কর্মকর্তাকে হত্যার মামলার প্রধান আসামি । তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে আটক করা হয়েছে ১৫ জনকে। উদ্ধার করা হয়েছে বেশকিছু ভারী অস্ত্রশস্ত্র। পুলিশের দাবি, অভিযানে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছেন তারা।
তিনি বলেন, এটি বড় ধরনের অভিযান হওয়ায় এলাকার বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা আগেই অভিযানের খবর পেয়ে থাকতে পারে।
অভিযানের অংশ হিসেবে সকাল থেকেই জঙ্গল সলিমপুরের চারপাশ ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি, যাতে কেউ পালিয়ে যেতে না পারে। বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, আজ থেকেই এলাকার নিরাপত্তায় পুলিশ ও র্যাবের দুটি ক্যাম্প চালু হবে। ক্যাম্পের নিরাপত্তার প্রয়োজনে এখানে ভারী অস্ত্র মোতায়েন করা হবে।
তবে অভিযান চলমান থাকায় এখনই অস্ত্র উদ্ধার বা গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো যাচ্ছে না বলে জানান অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান।
এছাড়া, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। কয়েক দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে সেখানে গড়ে উঠেছে হাজারো অবৈধ বসতি এবং প্লট বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে সক্রিয় রয়েছে বিভিন্ন সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দীন বলেন, এখানে প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন ছিল। এখন সেটি হয়েছে। সরকার আগে থেকেই এই এলাকা ঘিরে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছিল। এখন আমরা সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করব।