Breaking News:


শিরোনাম :
জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক, এটাকে অশনিসংকেত হিসেবে দেখি: ফরহাদ মজহার যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী তারাই ‘না’ ভোট চাচ্ছে : স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা পল্টনে স্কুলে শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতন, ব্যবস্থাপক কারাগারে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড স্থাপন করবে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট: মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনের আহ্বান নির্বাচন কমিশনের মাগুরায় ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভাঙচুর ১৬ ঘন্টায় ৭ জেলায় সমাবেশ, লাখো মানুষের ঢল: ভোরে ঢাকায় ফিরলেন তারেক রহমান জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে ‘বোর্ড অব পিস’ চালু – স্থায়ী সদস্য ফি এক বিলিয়ন ডলার, আজীবন চেয়ারম্যান ট্রাম্প রফতানি খাতকে বৈচিত্র্যময় ও প্রতিযোগিতামূলক করতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্য উপদেষ্টা ভোটারদের যাতায়াত ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ১১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি অনুমোদন

‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ : তিস্তা বাঁচানোর দাবিতে মশাল প্রজ্বলন কর্মসূচি

  • আপলোড টাইম : ১১:২৬ এএম, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৩১ Time View
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ শ্লোগানে তিস্তা নদীর উভয় তীরে একযোগে মশাল প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করেন তিস্তাপাড়ের মানুষ।  

জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই নিজস্ব অর্থায়নে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’র কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ।

বৃহস্পতিবার ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক, সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।  

তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ দ্রুত শুরু করার দাবিতে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচই’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে রংপুর বিভাগের পাঁচটি জেলায় (লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা) একযোগে ১১টি পয়েন্টে মশাল প্রজ্বলন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। মশাল প্রজ্বলন কর্মসূচিতে লাখো লাখো মানুষের সমাগম হয়।

‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন’-এর ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলা—লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধার তিস্তাপাড়ের কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা মশাল হাতে একযোগে স্লোগান দেন— ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’।

তিস্তাপাড়ের মানুষেরা জানান, উত্তরের পাঁচ জেলার প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তিস্তা নদীর ওপর নির্ভরশীল।

তাদের অভিযোগ, বর্ষাকালে ঘন ঘন বন্যা, পরবর্তী সময়ে ভয়াবহ নদীভাঙন, আর শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটে ফসল উৎপাদনে বাধা—এই তিন দুর্যোগই এখন তিস্তাপাড়ের মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা।

তারা জানান, বছরের পর বছর ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনার আশ্বাস শুনছেন, কিন্তু কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখেননি।

এ বছরের নভেম্বর মাসেই নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পের কাজ শুরু না হলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

তিস্তা নদীর ন্যায্য পানিবণ্টন ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে চলতি বছরে একাধিক কর্মসূচি পালন করেছে ‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন’।

নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদীর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা না হলে বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলন করা হবে— এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।

তিনি বলেন, তিস্তা শুধু উত্তরাঞ্চলের নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ। অবিলম্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে হবে। জনগণ এখন তিস্তার ন্যায্য অধিকার আদায়ে রাস্তায় নেমেছে।

দুলু বলেন, তিস্তা সমস্যা কোনো স্থানীয় ইস্যু নয়- এটি একটি জাতীয় সমস্যা। দীর্ঘ ১৬ বছর এক ধরনের ফ্যাসিবাদী শাসন রংপুরের মানুষের বুকের ভিতরে জগদ্দল পাথরের মতো বসিয়ে দিয়েছে, তবুও আমাদের কান্না থামেনি।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিরোধীদের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, তিস্তা মহা পরিকল্পনার বিপক্ষে যারা দাঁড়াবে, তারা জাতীয় শত্রুতে পরিণত হবেন।

তিনি সরকারকে নভেম্বরের মধ্যেই মহাপরিকল্পনার কাজ বাস্তবায়ন শুরু করার অনুরোধ জানান।

এর আগে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের পক্ষ থেকে লালমনিরহাটে গণমিছিল, গণসমাবেশ, পদযাত্রা ও স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।

‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন’ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ ফেব্রুয়ারি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তাপাড়ে গণশুনানিতে অংশ নিয়ে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরুর প্রতিশ্রুতি দেন। পরে তিনি জানান, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’র কাজ শুরু হবে।

১০ বছরের মেয়াদে দুই ধাপে এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে প্রথম ধাপে ৫ বছরে ৯ হাজার ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় হবে—যার মধ্যে চীন থেকে ঋণ নেওয়া হবে ৬ হাজার ৭০০ কোটি এবং সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও বিএনপি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘সরকার যদি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু না করে, তবে তিস্তাপাড়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

কর্মসূচিতে অংশ নেন তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী, লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, রংপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শামসুজ্জামান শামু, কাউনিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক ভরসাসহ পাঁচ জেলা বিএনপি ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech