।।বিকে রিপোর্ট।।
জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে তৃতীয় দফায় বৈঠকে গণভোট, বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ, অধ্যাদেশ ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
বৃহস্পতিবার ১১ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে তৃতীয় দফার বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে এমন সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়।
প্রস্তাবে বলা হয়, জুলাই সনদের সংবিধানের বিষয়গুলো বাস্তবায়নে দলগুলোর বিভিন্ন প্রস্তাব দেয়। সেগুলোর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সনদ বা তাঁর কিছু অংশ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠান।রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতার বলে বিশেষ সাংবিধানিক আদেশে বাস্তবায়ন করা। নির্বাচনের মধ্যে একটি গণপরিষদ গঠনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ব্যবস্থা করা। ত্রয়োদশ সংসদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এই সনদ বাস্তবায়ন। সংসদকে সংবিধান সংস্কার সভারূপে প্রতিষ্ঠিত করে সনদের বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের কাছে এই মর্মে মতামত চাওয়া যে, অন্তর্বর্তী সরকার এই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারবে কিনা।।
দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে ঐকমত্য কমিশন বিশেষজ্ঞ প্যানেল একাধিক বৈঠকে বিভিন্ন ধরনের বিকল্প বিবেচনা করে প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচ পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্যে সুপারিশ করে; এগুলো হচ্ছে অধ্যাদেশ, নির্বাহী আদেশ, গণভোট, বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ এবং ১০৬ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের মতামত চাওয়া। পরবর্তীতে আরো বিস্তারিত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে জুলাই জাতীয় সনদ ২০১৫-এ অন্তর্ভুক্ত হওয়া বিষয়সমূহকে (যার মধ্যে ভিন্নমত/ নোট অব ডিসেন্ট আছে) সেগুলো চারভাবে বাস্তবায়নের জন্যে পরামর্শ দিয়েছেন।
এর আগে দুই পর্বে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে। সেখানে সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়। এসব প্রস্তাবের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ, যা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে।
তবে সনদ সই হওয়ার পরও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় সনদ কার্যকর হয়নি। কমিশন জানিয়েছে, বাস্তবায়নের পদ্ধতি সনদের অংশ হবে না; এ বিষয়ে আলাদা সুপারিশ দেওয়া হবে।
ঐকমত্য কমিশন ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর লিখিত মতামতও গ্রহণ করেছে। এসব মতামত সমন্বয় করে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে—সংবিধান-সংক্রান্ত প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ জারির সুপারিশ করা হবে, আর সংবিধান-সম্পর্কিত নয় এমন প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে অধ্যাদেশ ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে।
বৈঠকের সূচনা বক্তব্য দেন কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। আলোচনায় বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।