।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে ফোনালাপের কয়েক ঘণ্টার মাথায় ইউক্রেনে রাশিয়া তাদের সবচেয়ে বড় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
শুক্রবার ৪ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সাইবিহা বলেছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ১৩ ঘণ্টা ধরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে রুশ বাহিনী। হাজার হাজার মানুষ মেট্রোরেল স্টেশন, ভূগর্ভস্থ পার্কিং লট ও খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন। শুক্রবার ভোর পর্যন্ত পাওয়া গেছে বিস্ফোরণের আওয়াজ। গতকালের রাতটি কিয়েভের জন্য খুবই ভয়াবহ এবং নির্ঘুম রাত ছিল। এত বাজে রাত এর আগে কখনও কিয়েভের বাসিন্দারা দেখেনি।
জানা গেছে, রাতভর ইউক্রেনে রেকর্ড ৫৩৯টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন এবং ১১টি ক্রুদ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রুশ বাহিনী। গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই যুদ্ধে এর আগে কখনও এক রাতে এত বেশি সংখ্যক ড্রোন রুশ বাহিনী নিক্ষেপ করেনি।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রুশ বাহিনীর নিক্ষিপ্ত ড্রানগুলোর মধ্যে ৪৭৬টিকে এয়ার ডিফেন্সের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ৬৩টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রাজধানী কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে এবং সারা রাত ধরে চলা এই হামলায় নিহতের কোনো ঘটনা না ঘটলেও আহত হয়েছেন অন্তত ২৩ জন।
কিয়েভ থেকে এএফপি জানায়, ইউক্রেন রাজধানী কিয়েভে এএফপির সংবাদকর্মীরা রাতভর ড্রোনের গুঞ্জন এবং বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলা প্রতিহত করতে সক্রিয় ছিল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় যুদ্ধ অবসানের কোনো অগ্রগতি হয়নি। অপরদিকে ক্রেমলিন বলেছে, রাশিয়া তাদের যুদ্ধ লক্ষ্য অর্জনে অটল থাকবে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, দুই প্রেসিডেন্টের ফোনালাপের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা বাজতে থাকে।
তিনি বলেন, রাশিয়া আবারও দেখিয়ে দিল যে তারা যুদ্ধ ও সন্ত্রাস বন্ধ করতে চায় না। এটি পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে, প্রকৃত ও বৃহৎ পরিসরের আন্তর্জাতিক চাপ ছাড়া রাশিয়া তাদের নির্বোধ ও ধ্বংসাত্মক আচরণ পরিবর্তন করবে না।
জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ৫৩৯টি বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ও ১১টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে রাশিয়া।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ৩ জুলাই পুতিনকে ফোন করেছিলেন ট্রাম্প। বিভিন্ন ইস্যুতে দীর্ঘসময় ধরে কথা বলেছেন তারা। পরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, পুতিনের সঙ্গে এই ফোনালাপে রাশিয়া-ইউক্রেনের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ইস্যুটির অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশা করেছিলেন, কিন্তু তা হয়নি।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিগা বলেন, পুতিন স্পষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্রসহ যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো সব পক্ষকে অবজ্ঞা করছেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সপ্তাহে ইউক্রেনের সামরিক সহায়তার পরিমাণ কমিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ফন ডের লায়েন এই ঘোষণাকে ‘সতর্ক সংকেত’ বলে অভিহিত করেছেন এবং ইউরোপকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ট্রাম্প-পুতিন ফোনালাপ নিয়ে এবার ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ছিল ব্যতিক্রমী রকমের হতাশাব্যঞ্জক। জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার পর এটি ছিল তাদের মধ্যে ষষ্ঠ ফোনালাপ। এর আগের বেশিরভাগ আলোচনার পর ট্রাম্প আশা জাগানিয়া বক্তব্য দিয়েছিলেন। তবে এখন তিনি ক্রমশ পুতিনের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করছেন।
এদিকে, ইউক্রেনও রাশিয়ায় ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বিধ্বস্ত হলে একজন নারী নিহত হন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর।
এ ব্যাপরে রাশিয়ার সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সূত্র : সিএনএন /এএফপি