Breaking News:


শিরোনাম :
উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী শত্রুদের পরাজয়ের আরেকটি ‘তিক্ত স্বাদ’ দিতে খামেনির হুঁশিয়ারি সারাদেশে বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু ভারত থেকে এলো আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ছাড়’ সংক্রান্ত সংবাদ বিভ্রান্তিকর : জ্বালানি বিভাগ শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ পর্যালোচনা করছে ভারত : জয়সওয়াল প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি: রাশেদ প্রধানকে নিজ জেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের গণমিছিল আজ দুই দিনে ১২ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক হরমুজ খুললেও ইরানের বন্দর অবরোধ থাকবে: ট্রাম্প

থাই-কাম্বোডিয়া সীমান্তে দ্বিতীয় দিনেও চলছে ভয়াবহ সংঘর্ষ: নিহত ১৫, বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ

  • ১২:১০ পিএম, শুক্রবার, ২৫ জুলাই, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার মধ্যে গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সীমান্ত সংঘর্ষ গড়িয়েছে দ্বিতীয় দিনে।দুই দেশের সেনাবাহিনী ভারী কামান ও রকেট দিয়ে একে অপরের দিকে হামলা চালিয়েছে। যার ফলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৫ জনে।

শুক্রবার ২৫ জুলাই এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

সংঘর্ষ বন্ধে আন্তর্জাতিক আহ্বান সত্ত্বেও দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ছেই। থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার ভোর হওয়ার আগেই থাইল্যান্ডের উবন রাতচাথানি ও সুরিন প্রদেশে কাম্বোডিয়ার সেনারা রুশ-নির্মিত বিএম-২১ রকেট সিস্টেম ও ভারী কামান দিয়ে হামলা চালায়।

এই হামলার জবাবে থাই সেনাবাহিনীও “যথাযথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা” নেয় বলে জানানো হয়।

থাইল্যান্ড জানায়, ১ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষটি শুরু হয় বৃহস্পতিবার একটি বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায়। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এই সীমান্তে সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিরোধ চলছে। সম্প্রতি সেই এলাকায়, থাই সেনাবাহিনীর একজন সদস্য সাম্প্রতিক একটি ল্যান্ডমাইনে পা হারান, যা থাইল্যান্ড দাবি করেছে কাম্বোডিয়ার সৈন্যরা পুঁতে রেখেছিল।

তবে কাম্বোডিয়া এই অভিযোগ “ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এরপরই ছোট অস্ত্রের গুলির লড়াই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে কমপক্ষে ছয়টি অঞ্চলে ভারী গোলাগুলিতে। মূলত থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার সীমান্ত বরাবর প্রায় ১৩০ মাইল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এই সংঘর্ষ।

থাইল্যান্ডের সুরিন প্রদেশে রয়টার্সের সাংবাদিকরা শুক্রবারও থেমে থেমে বিস্ফোরণের শব্দ শুতে পাচ্ছেন এবং স্থানীয় রাস্তা ও পেট্রোল পাম্পগুলোর আশপাশে সশস্ত্র সেনা উপস্থিতি বাড়তে দেখেছেন। এছাড়া থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনীর একটি বহর — যাতে ডজনখানেক ট্রাক, সাঁজোয়া যান ও ট্যাঙ্ক রয়েছে — ধানক্ষেত ঘেরা প্রাদেশিক সড়ক দিয়ে সীমান্তের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সংঘর্ষ শুরুর ঠিক আগে থাইল্যান্ড কাম্বোডিয়ার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে এবং ফিরিয়ে আনে নিজের রাষ্ট্রদূতকে।

থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশটিতে ১৪ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ জনই সাধারণ মানুষ। আহত হয়েছে ৪৬ জন, যাদের মধ্যে ১৪ জন সেনা সদস্য।

কাম্বোডিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এখনো হতাহত বা নাগরিক সরিয়ে নেওয়ার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে কাম্বোডিয়ার ওদ্দার মেঞ্চি প্রদেশের প্রশাসনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, একজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। প্রায় ১৫০০ পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে ব্যাংককে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। বৃহস্পতিবার ২৪ জুলাই বিকেলে এক ‍বিজ্ঞপ্তিতে এই পরামর্শ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সীমান্তে ভ্রমণ বা বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ অবস্থানে থাকতে বা সরে যেতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোনো তথ্য বা মত প্রকাশ করার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও বাংলাদেশি নাগরিকদের জরুরি প্রয়োজনে +৬৬৮১৮৭০৮৪৪৩ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech