।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের প্রাণকেন্দ্র দিল্লির জন্তর মন্তরে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এতে সেখানে থাকা বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশি হামলার শঙ্কা বাড়ছে।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে দুই মাস আগে ককরোচ জনতা পার্টি দিল্লির জন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু করে। দিন যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি আরও তীব্র হচ্ছে।
প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আসছেন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, জন্তর মন্তরের আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে পুলিশের একটি পুরো কনটিনজেন্টকে সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল রাতে তাদের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ওপর পাথর ও বোতল ছুড়ে কিছু দুস্কৃতিকারী। এরপর সেখানকার পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিন্তু পরে সবকিছু শান্ত হয়।
তবে সিজেপি জানিয়েছে, জন্তর মন্তরে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারা আশঙ্কা করে বলেছে, সরকার তাদের ওপর আরেকবার হামলার পরিকল্পনা করছে কি না।
এ ব্যাপারে এক্সে এক পোস্টে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেছেন, “জন্তর মন্তরে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ। সরকার কি আরেকটি নির্মম হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে?”
অপর একটি পোস্টে তিনি পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান বিক্ষোভকারীদের ওপর তারা যেন কোনো ধরনের শক্তি প্রয়োগ না করে।
এমন পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই সকাল সকাল নতুন ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং এ বিচার হবে দ্রুত বিচার আদালতে।
ফেসবুকে মোদি লিখেছেন, “আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না! প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় নেওয়া ধারাবাহিক উদ্যোগগুলোরই অংশ এটি।”
“যারা আমাদের তরুণদের ভবিষ্যতের ক্ষতি করার চেষ্টা করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
এদিকে বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমা চাইতে বলেছে।
সূত্র: এনডিটিভি