।। বিকে ডেস্ক ।।
দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যে ভারতের সমর্থন নেই বলে জানিয়েছেন দেশটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। শুক্রবার ৭ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ৫ আগস্টের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি মিডিয়া সংস্থার আয়োজন ছিল এবং সেখানে যা বলা হয়েছে, তার দায় ভারত সরকার নেয় না। বিশেষ করে সংবিধানসম্মতভাবে গঠিত বাংলাদেশের বৈধ সরকারের বিষয়ে হসিনার কোনো মন্তব্যকে ভারত সমর্থন করে না।
বাংলাদেশ ছাড়ার পর গত বুধবার নয়াদিল্লি থেকে প্রথম ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন শেখ হাসিনা। ওই সময় তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, আগামী ডিসেম্বরেই তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান। এমনকি গ্রেপ্তার, কারাবাস কিংবা জীবনের ঝুঁকি নিতেও তিনি প্রস্তুত।
তিনি বলেন, আমার ভাগ্য যা-ই হোক না কেন, আমি আমার মানুষের কাছে ফিরে যাব। আমার প্রিয় দেশবাসীরা যখন কষ্ট পাচ্ছে, তখন আমি দূরে থাকতে পারি না… আমি ডিসেম্বরেই ফিরে যেতে চাই।
শেখ হাসিনার এই ভার্চুয়াল বক্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ঢাকা। এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ হয়েছে। সেখানে তিনি এবং তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও এর জনগণের বিরুদ্ধে বিষাক্ত ঘৃণা ছড়িয়েছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এমন একটি দিন, যখন বাংলাদেশের জনগণ জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্যাপন করছে, সে সময় ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করাটা পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার অপরাধের সহযোগীদের ইতিহাসের গতিপথ উল্টে দেওয়ার একটি ব্যর্থ চেষ্টা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ অতীতে এ ধরনের ঘৃণ্য চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখনও করছে।
সুত্রঃ বিডি জার্নাল