।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে আঘাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ জনে।
মঙ্গলবার ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ৯টা ৫০ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। সেবু দ্বীপ কেঁপে উঠা ভূমিকম্পের রিখটার স্কেলের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৯। এতে দ্বীপটির বিভিন্ন এলাকায় বহু ভবন ধসে পড়েছে। খবর রয়টার্স।
দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, ভূমিকম্পের পর উদ্ধার কাজ চলছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিপাইনে আঘাত হানা ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল বোহল প্রদেশের কালাপে পৌরসভা। ভূমিকম্পটি পৌরসভা থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ভূপৃষ্ঠ থেকে ১১ কিলোমিটার ভূগর্ভে সমুদ্রে উৎপত্তি হয়েছে। ওই এলাকায় প্রায় ৩৩ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ফিলিপাইনে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে বলে জানালেও পরবর্তীতে তা সংশোধন করে ইউএসজিএস। মার্কিন এই ভূতাত্ত্বিক সংস্থা বলেছে, ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূম্পন রেকর্ড করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছে অবস্থিত বানতাইয়ান শহরের ২৫ বছর বয়সী বাসিন্দা মারথাম প্যাসিলান বলেন, ভূমিকম্পের সময় তিনি একটি ক্ষতিগ্রস্ত গির্জার কাছে ছিলেন। হঠাৎ তিনি গির্জার দিক থেকে বিকট শব্দ শুনতে পান এবং দেখতে পান পাথর ভেঙে পড়ছে।
স্থানীয় উদ্ধারকারী দলের কর্মকর্তা উইলসন রামোস বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ধসে পড়া ভবনের নিচে আরও মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারেন। উদ্ধার কাজ এখনো চলছে। তবে কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, সে সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন। রাতের অন্ধকার এবং ভূমিকম্প-পরবর্তী একাধিক পরাঘাতের কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে সেবু দ্বীপের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত বোগো শহরের কাছে। শহরটিতে প্রায় ৯০ হাজার মানুষের বসবাস। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে তিনজনের বাড়ি ভূমিধসে চাপা পড়েছে।
উল্লেখ্য, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘‘রিং অব ফায়ারে’’ অবস্থিত ফিলিপাইনে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। যদিও বেশিরভাগ ভূমিকম্প মানুষ টের পায় না। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপসংস্থা রিং অব ফায়ারকে বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির সক্রিয় অঞ্চল হিসেবে শনাক্ত করেছে। তবে ওই অঞ্চলে হঠাৎ করেই বড় ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে।