।।বিকে স্পোর্টস।।
বিশ্বকাপের ১ম সেমিফাইনালে ফেবারিট ফ্রান্সকে ২-০ গোলে পরাজিত করে বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে স্পেন।
বুধবার ১৫ জুলাই (বাংলাদেশ সময় রাতে) ডালাস স্টেডিয়ামে ফর্মের তুঙ্গে থাকা ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠল দে লা ফুয়েন্তের দল।
উল্লেখ্য ২০১০ সালে পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল স্পেন। প্রথমবারের মতো সেবার বিশ্বকাপ জিতেছিল স্প্যানিশরা। এরপর মাঝের তিনটি আসরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি সেভাবে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জণ করলো স্পেন। বিপরীতে লেস ব্লুজদের তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।
শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের দখলে। টুর্নামেন্টে আগের ছয় ম্যাচে ১৬ গোল করা ফ্রান্সকে এদিন খুব বেশি সুযোগই তৈরি করতে দেয়নি স্প্যানিশ রক্ষণ। ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া ও গোলরক্ষক উনাই সিমনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বারবার ব্যর্থ হন কিলিয়ান এমবাপেরা।
অবশেষে ২০তম মিনিটে নিজেদের দাপটের প্রতিদান পেয়ে যায় স্পেন। মার্ক কুকুরেলার ভাসানো একটি ক্রস পেনাল্টি এলাকার মধ্যে লুকা দিনিয়ের ক্লিয়ার করতে পারেননি। অ্যাস্টন ভিলার এই ডিফেন্ডার বল ক্লিয়ার করতে স্বাভাবিক ভাবেই পা বাড়ালে তা লামিন ইয়ামালের পায়ে লাগে এবং বার্সেলোনার এই তরুণ তারকা মাটিতে পড়ে যান।
এল সালভাদরের রেফারি ইভান বার্টন সঙ্গে সঙ্গেই পেনাল্টির বাঁশি বাজান। মিকেল ওয়ারজাবাল স্পট-কিক থেকে দারুণ শটে বল জালে পাঠান। ফ্রান্স গোলরক্ষক মাইক মেইগনান সঠিক দিকে ঝাঁপালেও বল ঠেকাতে পারেননি।
৩১তম মিনিটে ফ্রান্সের দুর্ভাগ্য আরও বাড়ে। দলের গুরুত্বপূর্ণ সেন্টার-ব্যাক উইলিয়াম সালিবা চোট পেয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়েন, তার জায়গায় নামেন ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়া।
৩৮তম মিনিটে অসাধারণ এক পাসিং মুভ থেকে ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ করে ফেলেছিল স্পেন। বক্সের সামনে দ্রুত ও নিখুঁত পাস বিনিময়ে ফ্রান্সের রক্ষণ ভেঙ্গে ফেললেও, ডায়ো উপামেকানোর ব্লকে ফাবিয়ান রুইজ গোল বঞ্চিত হন।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ফ্রান্স তাদের সেরা সময় কাটায়। রাবিওটের চমৎকার থ্রু পাস থেকে এমবাপ্পে গোলের সুযোগ পেলেও স্পেন গোলরক্ষক উনাই সিমনের দুর্দান্ত দক্ষতায় গোল করা সম্ভব হয়নি।
বিরতির আগে কয়েকটি ভালো আক্রমণ গড়লেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি স্পেন। অন্যদিকে সমতায় ফিরতে পারেনি ফ্রান্সও। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে লা রোজা।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮তম মিনিটে দানি ওলমো ও পেদ্রো পোরোর দারুণ বোঝাপড়ায় ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্পেন। তিন মিনিট পর ইয়ামাল বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
শেষদিকে স্পেনের ডেরায় একের পর এক আক্রমণ চালায় ফ্রান্স। তবে তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান গোলকিপার উনাই সিমন। তবে ৮২ মিনিটে ভুল করে বল ক্লিায় করতে বক্সের বাইরে চলে আসেন তিনি। সে সময় দুয়ের শট বক্সের মধ্যে ব্লক করেন সিমন। পরের মিনিটে হার্নান্দেজকেও ঠেকিয়ে দেন এই গোলরক্ষক। ম্যাচের শেষ দিকে এমবাপ্পের হতাশাই যেন ফ্রান্সের সার্বিক হতাশার প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। সিমনের ওপর ট্যাকল করায় তিনি হলুদ কার্ড দেখেন।
শেষ পর্যন্ত নিজেদের জাল অক্ষত রাখেন স্প্যানিশরা। ২-০ গোলের জয় নিয়ে ২০১০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলো স্পেন।
আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক–নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
সেখানে স্পেনের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড অথবা আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে ১৮ জুলাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামবে ফ্রান্স।