Breaking News:


বাংলাদেশে তৈরি ৩টি ল্যান্ডিং ক্রাফট যাচ্ছে আরব আমিরাতে

  • ১১:২৭ এএম, শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫
ছবি: বাসস

।।বিকে রিপোর্ট।।
দেশের জাহাজ নির্মাতা ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডে তৈরি ৩টি জাহাজ রপ্তানি হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই)।

চট্টগ্রাম থেকে ইউএইর প্রতিষ্ঠান মারওয়ান অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানি এলএলসির কাছে হস্তান্তর করা হয় তিনটি ল্যান্ডিং ক্রাফট- মায়া, এসএমএস এমি ও মুনা।

বর্তমানে কর্ণফুলী নদীর তীরে জাহাজগুলো প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।

জাহাজ হস্তান্তর উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ২০ নভেম্বর চট্টগ্রামের পটিয়াতে অবস্থিত ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের সামনে নোঙ্গরকৃত জাহাজে আয়োজিত জাহাজ ডেলিভারি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আব্দুল্লাহ খাসিফ আল হামুদি।

রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আব্দুল্লাহ খাসিফ আল হামুদি বলেন, বাংলাদেশের একটি বড় ও সক্ষম জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থেকে ইউএই-এর জন্য তিনটি নতুন ল্যান্ডিং ক্রাফট নির্মাণ-দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলো।

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন মেরিন এবং ইউএই-এর মারওয়ান শিপিংয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা ভবিষ্যতে সামুদ্রিক খাতে আরও বড় আকারে বিস্তৃত হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

বিশেষ অতিথি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুর রহিম খান বলেন, আজ এখানে এসে আমি দেখলাম, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাত যুক্ত হওয়ায় আমাদের রপ্তানি বাস্কেটে জাহাজ নির্মাণ এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

জাহাজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তিনটি জাহাজই সম্পূর্ণভাবে ইউএই-ভিত্তিক ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী নির্মিত। এগুলো অফশোর সাপ্লাই, মালবাহী পরিবহন এবং সমুদ্র বাণিজ্যের বিভিন্ন কাজে ব্যবহারযোগ্য। আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের পর জাহাজগুলো আরব আমিরাতের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে।

ল্যান্ডিং ক্রাফট তিনটিরই দৈর্ঘ্য ৬৯ মিটার, প্রস্থ ১৬ মিটার এবং ড্রাফট ৩ মিটার। আন্তর্জাতিক ক্ল্যাসিফিকেশন সোসাইটি ব্যুরো ভেরিটাসের মানদণ্ড অনুযায়ী নির্মিত এবং ১০ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম। প্রায় ৭০০ বর্গমিটার ক্লিয়ার ডেক স্পেস থাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ও বাল্ক কার্গো পরিবহনে উপযুক্ত।

ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন সোহেল হাসান বলেন, গত বছর মারওয়ান শিপিংয়ের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের আটটি জাহাজ নির্মাণের বড় ক্রয়াদেশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ‘রায়ান’ নামে একটি ল্যান্ডিং ক্রাফট এবং ‘খালিদ’ ও ‘ঘায়া’ নামে দুটি টাগবোট ইতোমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেই চুক্তির ধারাবাহিকতায় এবার আরও তিনটি ল্যান্ডিং ক্রাফট হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি জাহাজের চাহিদা আবারও বাড়ছে। তিনটি ল্যান্ডিং ক্রাফট হস্তান্তর আমাদের জন্য শুধু ব্যবসায়িক সাফল্য নয়, দেশের পুরো জাহাজনির্মাণ শিল্পের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা।

হস্তান্তর অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শহিদুল বাশার, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুর রহিম খান, মারওয়ান শিপিং অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানি এলএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ মোহাম্মদ হুসাইন আল মারজুকি, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আহসান হাবিব, কোস্ট গার্ড ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, জাহাজ নির্মাণ কাজ শুরুর পর থেকে এই পর্যন্ত ১১টি দেশে বিভিন্ন ধরনের ৩৬টি জাহাজ রপ্তানি করেছে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech