।। বিকে ডেস্ক রিপোর্ট ।।
নারীর অধিকার নিশ্চিতে সবাইকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং তরুণ প্রজন্মকে সমতার মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হতে হবে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, ‘নারীকে রাষ্ট্র ও সমাজের মূলধারা থেকে দূরে রেখে জাতীয় অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি সম্ভব নয়’
রবিবার ৮ মার্চ দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কবি নজরুলের কবিতার পঙ্কতি উদ্ধৃতি করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তার আনিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।
বক্তব্যে একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে থেকে শুরু করে চব্বিশের জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সব আন্দোলন ও সংগ্রামে শহীদদের আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘শহীদদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই আমরা দেশ এবং জনগণের জন্য শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করতে পারি।’
তিনি বলেন, নারীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে নারী বিষয়ক দফতর প্রতিষ্ঠা করেন। আর ১৯৭৮ সালে গঠন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি বলেন, নারী শিক্ষার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার এই যুগান্তকারী উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবেও প্রশংসিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও নারী শিক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে। ‘অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগ পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আগামী ১০ মার্চ থেকে এই যুগান্তকারী কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।’
এ সময় আশা প্রকাশ করে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘নারীর অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবাই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সচেষ্ট হবেন। ফ্যামিলি কার্ডের উদ্যোগ পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’
নারীদের অধিকার নিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ অবদানকারী নারী। গৃহস্থালির কাজ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি শিল্প-সাহিত্য, কলকারখানা ও নির্মাণসহ সব ক্ষেত্রেই নারীর অবদান অসামান্য। নারীর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য আমরা যত পরিকল্পনাই গ্রহণ করি না কেন, এর সুফল পেতে হলে ঘরে-বাইরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।’
নারী নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘অতীতেও আমরা দেখেছি, সরকার আন্তরিক হলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে সামাজিক হয়রানির পাশাপাশি অনলাইনে নারীর চরিত্রহনন ও সাইবার বুলিং অপরাধ নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এটি নিয়ন্ত্রণে সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে আমি জেনেছি।’