রপ্তানি ও রেমিট্যান্সে স্বস্তি, কমলো বাণিজ্য ঘাটতি

  • ১১:৫১ এএম, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৫
ছবি: প্রতীকি

দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের চলতি হিসাবের নেতিবাচক অবস্থা যেমন কমেছে, তেমনি বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণও কমে এসেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাস (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) চলতি বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ইতিবাচক দিকে প্রবাহিত হয়েছে।

দেশে রেমিটেন্স প্রবাহরে বৃদ্ধি, রপ্তানি বাড়ার পাশাপাশি আমদানি কমায় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে বাণিজ্য ঘাটতির নিম্নমুখী প্রবণতা কমেছে ১.৯৮ বিলিয়ন ডলার বা ২০ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিওপি—ব্যালান্স অব পেমেন্ট) হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র প্রতীয়মান হয়েছে।

এতে দেখা যায়, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রথম পাঁচ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭৮৮ কোটি ডলার, গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময় যা ছিল ৯৮৫ কোটি ডলার। এ হিসাবে ঘাটতি কমেছে ২০.০৩ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ৩,০৩৭ কোটি ৭০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, এবং ৪,৩৭৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। এর ফলে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১,৩৭০ কোটি ডলার।

তবে আগের অর্থবছরের একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১,৪৩৩ কোটি ডলার, যা এই সময়ের তুলনায় ৪.৪১ শতাংশ কমেছে। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ভালো খবর, যা মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

প্রতিবেদনটি আরও জানাচ্ছে, চলতি হিসাবের লেনদেনে ঋণাত্বক অবস্থান ছিল ১২৭ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরে (২০২৩-২৪) ৪০৭ কোটি ডলার ছিল।

সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে (ওভারঅল ব্যালান্স) ঘাটতিও কিছুটা কমেছে। জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে এই সূচকে ঘাটতি ছিল ১১০ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যেখানে গত মাসে এটি ছিল ১১৭ কোটি ডলার। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি ছিল ৪৪৪ কোটি ডলার।

তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট ১৮.৪৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২.৬ শতাংশ বেশি। গত বছর একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৫.০৭ বিলিয়ন ডলার।

হালনাগাদ তথ্য বলছে, এ সময়ে চলতি হিসাবেও ঘাটতি কমে ২২ কোটি ডলারে নেমেছে, আগের অর্থবছর একই সময়ে যা ছিল ৩৯৩ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রপ্তানি বেড়েছে ১০.১০ শতাংশ। এ সময়ে মোট রপ্তানি হয় এক হাজার ৮১২ কোটি ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এক হাজার ৬৪৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রবাসী আয়ের বা রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে এবং রপ্তানি আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে প্রতি মাসে দুই বিলিয়ন ডলার করে রেমিট্যান্স আসছে। এতে ডলার প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় লেনদেন ভারসাম্যের চলতি হিসাবে উন্নতি হয়েছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘গত পাঁচ মাসে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি মিলে অতিরিক্ত সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলার যোগ হয়েছে। নানা প্রতিকূলতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও রেমিট্যান্স বেড়েছে। একই সময়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে। এখানে প্রবাসীদের অনেক বড় অবদান রয়েছে। এতে চলতি হিসাবের যে ঘাটতি দেখা দিয়েছিল সেটি আর নেই। বিগত সরকারের আমলে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বেশি ওভারডিউ (বকেয়া আমদানি দায়) ছিল। কিন্তু গত পাঁচ মাসে রিজার্ভে হাত না দিয়েই আমরা প্রায় সব দেনা পরিশোধ করে দিয়েছি। আর অল্প কিছু ওভারডিউ আছে, যেটা নেই বললেই চলে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech