।।বিকে আন্তর্জাতকি ডেস্ক।।
শনিবার মধ্যরাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েছে ৫৯৫টি ড্রোন এবং ৪৮টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রুশ বাহিনী। এতে নিহত হয়েছেন ৪ জন এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৮০ জন।
রবিবার ২৮ সেপ্টেম্বর কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়,ইউক্রেন জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর ‘শত শত’ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে দেশটিকে আক্রমণ করেছে, যার ফলে শুধু রাজধানীতেই অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড তাদের আকাশসীমা সুরক্ষিত করতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, টানা ১২ ঘণ্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রুশ বাহিনী। নিক্ষিপ্ত ৫৯৫টি ড্রোনের মধ্যে ৫৬৮টি এবং ৪৮টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ৪৩টি-কে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে দেশটির এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। বাকি যেগুলোকে ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি, সেগুলোর আঘাতেই ঘটেছে হতাহতের এই ঘটনা।
নিহত এবং আহতদের সবাই বেসামরিক বলে দাবি করেছেন জেলেনস্কি।
টেলিগ্রাম বার্তায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা জি৭ এবং জি২০-কে রাশিয়ার প্রতি শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
মাঝরাতে সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠার পর শহরতলি এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত অ্যাপার্টমেন্ট ভবনগুলোর ভূ-গর্ভস্থ গ্যারেজ এবং ভূ-গর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন।
ব্যাপক এই ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিয়েভের কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কিয়েভে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থারও উল্লেকযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিয়েভের শহরতলি এলাকা। রয়টার্সের সাংবাদিকরা সরেজমিনে সেই এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তারা জানিয়েছেন, সেখানে বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
রুশ হামলার বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য কিয়েভ ইসরাইলের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেয়েছে-ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির এমন তথ্য প্রকাশের পর রাশিয়া এ হামলা চালালো।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিগা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ইউক্রেনের শহরগুলোর ঘুমন্ত মানুষের ওপড় রাশিয়া ব্যাপকহারে বিমান হামলা চালিয়েছে। আবারও শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আবাসিক ভবন ধ্বংস করে দেওয়া হলো এবং বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের ঘটনা ঘটানো হলো।
এ ইস্যুতে রুশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে মুখপাত্ররা জানিয়েছেন, শুধু সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চলানো হয়েছে। বেসামরিক কোনো এলাকায় হামলা করা হয়নি।