।।বিকে রিপোর্ট।।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করা হবে ১ ডিসেম্বর।
মঙ্গলবার ২৫ নভেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলম রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের পর এই তারিখ নির্ধারণ করেন বলে জানান দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ সালাম।
এর আগে ২৩ নভেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ হাসিনা, তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা আরও তিনটি দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার জন্য ২৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।
এ ছাড়া, হাসিনা, তার ভাগ্নি আজমিনা সিদ্দিক ও টিউলিপ সিদ্দিক এবং ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা আরও দুটি দুর্নীতি মামলার বিচার বর্তমানে বিশেষ জজ আদালত-৪-এ বিচারাধীন বলে জানায় প্রসিকিউশন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, শেখ রেহানার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত ১৩ জানুয়ারি মামলা দায়ের করেন দুদকের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন। পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পের অধীনে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন ১২ থেকে ১৪ জানুয়ারির মধ্যে ঢাকা সমন্বিত জেলা অফিস-১-এ ছয়টি পৃথক মামলা দায়ের করেছে।
মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলাটির তদন্ত শেষে গত ১০ মার্চ আরো দুই আসামিসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।
এই মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউক-এর সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ, তদন্তে পরবর্তীতে যুক্ত হওয়া দুই আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
২৫ মার্চ দুদক ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ কোর্টে ছয়টি চার্জশিট দাখিল করে। হাসিনাকে ছয়টি মামলাতেই অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ৩১ জুলাই সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে হাসিনা, রেহানা, জয়, পুতুল, রাদওয়ান সিদ্দিক, টিউলিপ ও আজমিনা সিদ্দিকসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এই মামলায় ৩২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।