।।বিকে রিপোর্ট।।
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম (৪২)।
বুধবার ২৮ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল।
বিকালে শেরপুর-৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক আয়োজিত ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি সমর্থকরা বিলম্বে এসে চেয়ারে বসা নিয়ে বাগবিতণ্ডা এবং হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জামায়াত সমর্থকদের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় ৫০-এর বেশি জামায়াত সমর্থক আহত হন। ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রেজাউল করিম ইন্তেকাল করেন।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া এলাকার বাসিন্দা ও মাওলানা আব্দুল আজিজের ছেলে। তিনি শ্রীবরদী উপজেলার ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল সাংবাদিকদের বলেন, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকেরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় রেজাউল করিমকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। বিচার না পেলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এর আগে বুধবার বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মাঠে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা মঞ্চে অবস্থান নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠানে চেয়ার বসানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী সমর্থকের মধ্যে প্রথমে হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, জামায়াত নেতার মৃত্যুর বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার পর থেকে ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।