।।বিকে রিপোর্ট।।
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় কদলপুরে পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া ৫ বছর বয়সী শিশু মিসবাহকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার ২৮ জানুয়ারি দিবাগত রাত ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় ও পলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির নাম মেজবাহ। সে নলকূপের গর্তের কাছাকাছি একটি বাড়ির সাইফুল ইসলামের ছেলে। জানা গেছে, জয়নগর গুচ্ছ গ্রামের ছোট্ট শিশু মোহাম্মদ মেজবাহ বড় বোন নিমুমনির সাথে টিলা ভূমির বাড়ি থেকে বিকালে খেলতে গিয়েছিল বাড়ির পাশে খোলা জায়গায়। খেলতে খেলতে মেজবাহ পাশের লতাপাতা ঢাকা একটি পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পা পিছলে পড়ে যায়।
তা শুনে পাড়ার লোকজন সেখানে ছুটে যায় তারা শিশুটিকে উদ্ধার করতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিস ও থানায় ফোন করে।
এই ঘটনার সংবাদ পেয়ে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ, সেনা সদস্যরা। শিশুটির জীবন বাঁচানোর তাগিদে গর্তে লাগানো হয় অক্সিজেন পাইপ, শুরু হয় গর্তের বাইরে থেকে খনন কাজ। সেখানে ছুটে গিয়ে উদ্ধার কাজ তদারকিতে ছিলেন রাউজান উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি অংছিং মারমা, সহকারি পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন, ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম।
রাউজান ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ সামশুল আলম বলেন, আনুমানিক ৩০ ফুট নিচে গর্তে শিশুটি পড়ে গিয়েছিল। বিশেষ যানের সাহায্যে মাটি কেটে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে বিকেলে শিশুটি নলকূপের গর্তে পড়ে যায়। ৫টা ২০ মিনিটের দিকে স্থানীয়রা বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসকে জানায়। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে।।
এর আগে বুধবার বিকেলে গর্তে পড়ে যাওয়ার খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয়রা টর্চলাইট ব্যবহার করে গর্তের ভেতরে শিশুটির অবস্থান দেখার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ গর্তের ভেতরে একটি গাছ ঢুকিয়ে শিশুটিকে তা ধরে রাখার নির্দেশ দিচ্ছেন। তবে পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিশেষ যানের সাহায্যে মাটি কেটে শিশুটিকে উদ্ধার করে।
সর্বশেষ তথ্যে চট্টগ্রাম জেলা ফায়ার সার্ভিস–৩ জোনের উপসহকারি পরিচালক আবদুল মান্নান জানান, পড়ে যাওয়ার প্রায় চারঘন্টা পর রাত সাড়ে আটটার দিকে শিশুটিকে গর্ত থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে আনা হয়।
জানতে চাইলে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটি মারা গেছে। ডিপ টিউবওয়েলে পরিত্যক্ত গর্তের বিষয়ে জানতে চাইলে রাউজান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের প্রকৌশলী রহমত উল্লাহ বলেন, গুচ্ছ গ্রামে আমাদের একটি নতুন টিউবওয়েল বসানো হয়েছিল। পাশের পরিত্যক্ত গর্তের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।
মেজবাহর বাবা সাইফুল আলম বলেন, আমি ছেলেকে খেলতে বসিয়ে দোকানে যাই। এরমধ্যে আমার ছেলে নলকূপের গভীর গর্তে পড়ে যায়। আমি দোকানে না গেলে এই বিপদ আসতো না। তার বোন বলে, ভাই গর্তে পড়ে গেলে আমার হাত ধরে ফেলে। কিছুক্ষণ পর ভাইয়া চিৎকার করতে করতে গর্তে ঢুকে যায়।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিল দুই বছরের শিশু সাজিদ। ওই সময় ঘটনাটি সারা দেশে আলোচনা হয়েছিল। পুলিশ, সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও স্থানীয়রা টানা ৩২ ঘণ্টা শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে ১১ ডিসেম্বর শিশুটিকে উদ্ধার করেছিল। ওইদিন হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।