।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা বন্ডি বিচে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। বন্দুকধারীর গুলিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাড়িয়েছে বলে নিউ সাউথ ওয়েলসের পুলিশ জানিয়েছে।
ওই ঘটনায় ঘটনায় আরও অন্তত ৪০ জন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়েছে দুইজন পুলিশ কর্মকর্তাও।
রবিবার ১৪ ডিসেম্বর (স্থানীয় সময়) সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। এতে সিডনিজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পর বন্ডি সমুদ্রসৈকতে বন্দুকধারীরা হামলা চালায়। আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে দুই বন্দুকধারী এলোপাতাড়ি গুলি চালালে মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ছুটির দিনের সন্ধ্যায় জনাকীর্ণ সৈকত এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
যে দুইজন বন্দুকধারী এই হামলা চালিয়েছে, তাদের একজন পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। আরেকজনকে আহত অবস্থায় পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এই ভয়াবহতার মধ্যেই সামনে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও। যেখানে দেখা যায়, গোলাগুলি শুরু হলে নিরস্ত্র এক পথচারী প্রথমে একটি পার্ক করা গাড়ির আড়ালে আশ্রয় নেন। পরিস্থিতি বুঝে নেওয়ার পর তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেছন দিক থেকে এক বন্দুকধারীর দিকে দৌড়ে যান। মুহূর্তের মধ্যে তিনি হামলাকারীর গলা চেপে ধরে তাকে কাবু করেন এবং বন্দুকটি ছিনিয়ে নেন। বন্দুকধারী মাটিতে পড়ে গেলে ওই সাহসী ব্যক্তি সেটি তাক করে ধরে রাখেন, যাতে সে আর কাউকে ক্ষতি করতে না পারে।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, তার এই তাৎক্ষণিক ও সাহসী পদক্ষেপের কারণেই আরও বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত ওই পথচারীর নাম ও পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনাটিকে ‘মর্মান্তিক ও গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানেস। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত জানানো হবে।’
তিনি আরও জানান, নাগরিকদের জীবন রক্ষায় পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানেস অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ কমিশনার ও এনএসডব্লিউ-এর প্রিমিয়ারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানিয়েছেন।
এদিকে সাংবাদিক ড্যানিয়েল রবার্টসন আল জাজিরাকে বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় এ ধরনের বন্দুক হামলা অত্যন্ত বিরল হওয়ায় এই ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে তাসমানিয়ায় একজন বন্দুকধারীর গুলিতে ৩৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পরে এটাই অস্ট্রেলিয়ায় সশস্ত্র হামলায় এত হতাহতের ঘটনা ঘটল। প্রসংগত, পোর্ট আর্থার গণহত্যার পর অস্ট্রেলিয়ায় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়। সেই আইনের পর দেশটিতে বড় ধরনের গোলাগুলির ঘটনা খুব কমই ঘটেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বন্ডি বিচ ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা পায়ে হেঁটে টহল দিচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষকে এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।