।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনা সোমবার শেষ হয়েছে।
কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা নিরসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার ২২ জুন বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
এর আগে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার ২১ জুন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে ৬০ দিনের একটি রোডম্যাপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্মত হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের বুয়ের্গেনস্টক রিসোর্টে সপ্তাহজুড়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, লেবাননে সংঘাত বন্ধে একটি প্রক্রিয়া নিয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গতকাল রোববার ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন। গত সপ্তাহে সম্পাদিত একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় এপ্রিল থেকে কার্যকর নাজুক যুদ্ধবিরতি আরও অন্তত ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
তবে আলোচনা শুরুর আগেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ‘ইরান আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের চেষ্টা করলে তাদের আর কোনো দেশ থাকবে না।’ একই সঙ্গে তিনি হুমকি দেন, ‘প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ওই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, আলোচনার মাধ্যমে ইরান তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানিতে ছাড়, জব্দ সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করা এবং পুনর্গঠন ও উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর বিষয়ে অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানান হয়, ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানি প্রতিনিধিরা মূল বৈঠক কক্ষে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানান। যদিও কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত ছিল।
অন্যদিকে আলোচনায় অংশ নেওয়া এক মার্কিন কূটনীতিক রয়টার্সকে বলেন, ‘ইরানিরা কখনোই আলোচনা ত্যাগ করেনি। গভীর রাত পর্যন্ত আলোচনা চলেছে। হরমুজ প্রণালি, লেবানন, পারমাণবিক ইস্যু এবং সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
ইরান দাবি করছে, লেবাননে সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর জেরে তেহরান আবারও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয় এবং জানায়, রোববারের আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত হবে না।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার দাবি অস্বীকার করেছেন, তবে জাহাজ চলাচলের তথ্য পরিস্থিতির প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, রোববার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র পাঁচটি জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ২৬।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি সামরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো জাহাজকে প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
লেবাননেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও ইসরায়েলি হামলা ও হিজবুল্লাহর পাল্টা আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। তবে রোববার তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি দেখা গেছে এবং দক্ষিণ লেবাননে বহু বাসিন্দা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন।