পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, আমার মন্ত্রণালয় থেকে যেসব কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত হাতে নেওয়া হবে এবং বাস্তবায়ন করা হবে তা ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক দূষণ রোধ, সুন্দরবন সুরক্ষায় দস্যুতা দমন ও বিষ প্রয়োগ বন্ধ করা।
এই প্রতিবেদককে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম তার এসব কর্মপরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, প্রথমত যেটি করব সেটি হলো-আমরা দেশবাসীর কাছে কমিটমেন্ট করেছিলাম, বিএনপি যদি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায় তাহলে আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করব। এতে প্রতি বছর আমাদের ৫ কোটি করে গাছ লাগাতে হবে। এ কাজটি আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করব। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই বৃক্ষ রোপণের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করব। তারপর কর্মপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেব। সেখান থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করব।
তিনি বলেন, প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে দেশে বর্তমানে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। ঢাকাসহ বড় বড় শহরে যে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে তা ওয়ানটাইম প্লাস্টিক। বিগত বিএনপি সরকারের আমলে এটি নির্মূল করা হয়েছিল। আবার আস্তে আস্তে এটি ছত্রাকের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। এটা আমাদের পরিবেশের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর। এটি নিয়েও আমরা পরিকল্পনা করছি এবং দ্রুত কাজ শুরু করব।
প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন সুরক্ষার ক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছনে পড়ে আছি। দস্যুবৃত্তি প্রচণ্ড পরিমাণে বেড়েছে। সম্প্রতি ৫টি বাহিনী প্রতিনিয়ত জেলেদের অপহরণ করছে, মুক্তিপণ নিয়ে ছাড়ছে। এক্ষেত্রে জেলেরা অসহায় হয়ে পড়েছে। জেলেরা ভয়ে সাগরে যেতে চাচ্ছে না। এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করব। এছাড়া বিষ দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে, যেটা ভয়ানক ক্ষতিকর। আমরা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার সব বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে বসব। চেষ্টা করব যাতে আমরা বিষ প্রয়োগটা বন্ধ করতে পারি। বিষে টোটাল মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমাদের আমিষের চাহিদার ঘাটতি হবে বিষের কারণে।
তিনি বলেন, পরিশেষে বলব- আমাকে যে যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তা আমি যথাযথভাবে পালন করব। আশা করি আমার দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে দেশ ও মানুষ উপকৃত হবে।
লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম আরও দুইটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রয়েছেন। তা হলো- আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি বাগেরহাট-৩ আসন (মোংলা-রামপাল) থেকে বিপুল ভোটে জামায়াত প্রার্থীকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন। তিনি দীর্ঘ প্রায় ১৫-১৬ বছর ধরে মোংলা-রামপালের মাটি ও মানুষের সঙ্গে মিশে ছিলেন। যার ফলে এখানকার মানুষ তাকেই বেছে নেন। টানা ৩৫ বছর এ আসন আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। ৩৫ বছর পর আওয়ামী লীগের এই দুর্গ দখল করে নিলেন বিএনপির লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম। তবে এ আসনে তার জয়ের পিছনে দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি তার ব্যক্তি পরিচয়ও ভোটের মাঠে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অর্থাৎ দলীয় প্রতীক ও ব্যক্তি ইমেজ দুইটিতেই জয় হয়েছে তার।