।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার অভিযোগে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জের ধরে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা থেকে ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা শুরু করে মার্কিন বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
বুধবার ১০ জুন বিপ্লবী গার্ড এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। বার্তাসংস্থা আল জাজিরা ও বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইআরজিসির এক বিবৃতির বরাতে প্রতিবেদনে জানান হয়, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবহরের সদর দপ্তর, কুয়েতের একটি সামরিক ঘাঁটি এবং জর্ডানের আজরাক অঞ্চলের একটি বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
ওই বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, মোট ২১টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে এবং এর মধ্যে চারটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে। ধ্বংস হওয়া স্থাপনাগুলোর মধ্যে জর্ডানের বিমানঘাঁটিতে থাকা একটি যুদ্ধবিমানের আশ্রয়কেন্দ্রও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসি বলেছে, জর্ডানের এ ঘাঁটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মিসাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যারমধ্যে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের একটি হ্যাঙ্গারও রয়েছে। এরসঙ্গে সেখানকার প্রাইমারি কমান্ড ও কট্রোল সেন্টারও ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
বিপ্লবী গার্ড জর্ডানি ঘাঁটিতে হামলার মাধ্যমে নিজেদের অভিযান শেষ করার ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলেছে, পাল্টা হামলা হিসেবে এই অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ২১টি অবকাঠামোকে টার্গেট করা হয়েছে। এরসঙ্গে মার্কিনিদের একটি এমকিউ-৯ ড্রোনও ভূপাতিতের দাবি করেছে তারা।
ইরানের সেনাবাহিনীর চৌকস এ ইউনিট বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তীতে যদি কোনো আগ্রাসন চালায় তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য তাদের সেনারা প্রস্তুত রয়েছে। আর যদি উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায় তাহলে এর পুরো দায়ভার যুক্তরাষ্ট্রকে নিতে হবে বলেও সতর্ক করেছে বিপ্লবী গার্ড।
গত সোমবার হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। ইরান এটি ভূপাতিত করেছে এমন দাবি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দেন তারা এর জবাব দেবেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই ইরানের উপকূলীয় বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই অভিযান ইরানের অযৌক্তিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি আনুপাতিক প্রতিক্রিয়া। হামলার পর পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির উপকূলবর্তী এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
সেন্টকম জানায়, ভূপাতিত হেলিকপ্টারের দুই পাইলটকে একটি মার্কিন চালকবিহীন সমুদ্র ড্রোনের মাধ্যমে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, `দুই পাইলটই নিরাপদ ও অক্ষত রয়েছেন। কিন্তু এই হামলার জবাব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য ছিল।‘
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান একটি ড্রোন ব্যবহার করে হেলিকপ্টারটিতে হামলা চালিয়েছিল। তবে হামলাটি ইচ্ছাকৃত ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে ইরানের আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে জানান হয়, হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দায় ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থা। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বান্দার আব্বাস, কেশম ও সিরিকসহ পারস্য উপসাগরীয় উপকূলীয় এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, `এটি তাদের কর্মকাণ্ডের জবাব। তারা আমাদের হেলিকপ্টারের ওপর হামলা চালিয়েছিল। আমাদের প্রতিক্রিয়াও শক্তিশালী ও কার্যকর হওয়া উচিত ছিল, এবং আমরা তাই করেছি।‘
এদিকে, মার্কিন হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, `ইরান কোনো হামলা বা হুমকি জবাবহীন রাখবে না।‘
তিনি আরও বলেন, `নিরাপদ থাকতে চাইলে বিদেশি বাহিনীগুলোর আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়াই উত্তম।‘
এই ঘটনার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। তেহরান পূর্বেই সতর্ক করেছিল যে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা নতুন করে প্রতিশোধমূলক আক্রমণের কারণ হতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা/বিবিসি