।।বিকে রিপোর্ট।।
১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের লক্ষ্যে সারা দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্যপদের তালিকা প্রকাশ করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। তালিকায় এবার ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্য পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
রবিবার ১৯ এপ্রিল এ তালিকা প্রকাশ করে এনটিআরসিএ।
১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য এমপিওভুক্ত শিক্ষক শূন্যপদের চাহিদা দেওয়ার কার্যক্রম গত ১২ এপ্রিল শেষ হয়। এর আগে গত ৩১ মার্চ অনলাইনে শিক্ষক শূন্যপদের চাহিদা দেওয়ার এই কার্যক্রম শুরু হয়।
এনটিআরসিএর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৯তম এনটিআরসিএ (শিক্ষক) নিয়োগের লক্ষ্যে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি ও ব্যবসা ব্যবস্থাপনা থেকে এমপিওভুক্ত শূন্যপদের (ই-রিকুইজিশন) সংগ্রহের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ৩১ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিলের মধ্যে অনলাইনে চাহিদা দিতে হবে।
সে অনুযায়ী গত রবিবার পর্যন্ত শূন্যপদের চাহিদা দেওয়ার শেষ সময় ছিল। এনটিআরসিএতে নিবন্ধনকৃত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অনলাইনে চাহিদা দিতে হবে। আগে জারিকৃত কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় অনলাইনে চাহিদা কোনোভাবেই বহাল থাকবে না। অফলাইনে, হার্ডকপিতে অথবা মেইলে কোনো চাহিদা গ্রহণযোগ্য হবে না।
এনটিআরসিএর আইন ২০০৫ এবং পরিপত্র অনুসারে এমপিওভুক্ত শূন্যপদের ক্ষেত্রে ই-রিকুইজিশন করা বাধ্যতামূলক। অন্যথায় প্রতিষ্ঠান প্রধান ও প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিলকরণসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা তাদের নিজ ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড http://ngi.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে অথবা এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটের (www.ntrca.gov.bd) ই-রিকুজিশন নামক সেবা বক্সের ই-রিকুজিশন লগইন অপশনে ক্লিক করে ই-রিকুজিশন প্ল্যাটফরমে প্রবেশ করে অনলাইন ফরমটি পূরণ করে শুধুমাত্র এমপিওভুক্ত শূন্যপদের অনলাইনে চাহিদা পাঠাবেন।
উল্লেখ্য, ই-রিকুজিশন ফরমটি পূরণের সময় এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত ই-রিকুজিশন সংক্রান্ত নির্দেশিকাটি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
নিবন্ধনের প্রচলিত তিন ধাপের কাঠামো বদলে প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাইয়ে নতুন পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ২০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার পর সরাসরি ভাইভা নেওয়া হবে। এবারই প্রথমবারের মতো ভাইভার নম্বর চূড়ান্ত মেধা তালিকায় যুক্ত করা হচ্ছে। এতে প্রার্থীর বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, দক্ষতা ও ব্যক্তিত্বের সমন্বিত মূল্যায়নের মাধ্যমে যোগ্যতম শিক্ষক বাছাই করা সম্ভব হবে
অন্যদিকে, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা পদ্ধতিতেও আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগে এনটিআরসিএ’র নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা এই তিন ধাপ থাকলেও চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে ভাইভার নম্বর যুক্ত করা হতো না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থীর সামগ্রিক দক্ষতার পূর্ণ মূল্যায়ন সম্ভব হতো না। পাশাপাশি পরীক্ষার ধাপ বেশি হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে দীর্ঘ সময় লাগত এবং ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে প্রার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হতো।
এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, নতুন প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে আগের সেই কাঠামো ভেঙে আরও সংক্ষিপ্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এবার ২০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে, যেখানে বিষয়ভিত্তিক ও সাধারণ— উভয় অংশই থাকবে। এরপর নেওয়া হবে ভাইভা এবং প্রথমবারের মতো ভাইভার নম্বর চূড়ান্ত ফলাফলে যুক্ত করা হবে। এতে প্রার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা, উপস্থাপনা ও ব্যক্তিত্বের একটি সমন্বিত মূল্যায়ন সম্ভব হবে।
এছাড়া স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি— তিন ধারার জন্য আলাদা পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তে একটি অভিন্ন ও মানসম্মত কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের বৈষম্য তৈরি না হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও এই একক পদ্ধতির পক্ষে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনে আমরা একটি বাস্তবভিত্তিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছি। আগে পরীক্ষার সঙ্গে শূন্য পদের সরাসরি সম্পর্ক ছিল না; কিন্তু এবার আগেভাগেই শূন্য পদের সঠিক তথ্য নেওয়া হচ্ছে এবং সেই অনুযায়ীই নিবন্ধন দেওয়া হবে। যতটি পদ থাকবে, ঠিক ততজনকেই সনদ দেওয়া হবে— এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।