Breaking News:


শিরোনাম :
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নয়াদিল্লিতে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজা শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান পদ্মা ব্যারেজ: বহুমুখি প্রকল্পের বহুমুখি সুফল- নদীপুনরুজ্জীবন, জলবিদ্যুত, খাদ্য উৎপাদন শিল্পকলা একাডেমিতে মনীষীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন: স্মরণ করা হলো ৫ গুণীজনকে তুরস্কসহ পার্শ্ববর্তী দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ কনস্যুলার সেবা ও ভ্রমণসংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা চট্টগ্রামে স্কুলছাত্রীকে আটকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ৪ শুক্রবার রংপুর সফরে যাচ্ছেন বিরোধীদলীয় নেতা ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের বিচারে বিশেষ সামরিক ট্রাইব্যুনাল বাতিলের আহ্বান জাতিসংঘের মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণের ওপর বিলম্ব সুদের হার কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশকে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়াতে ওয়াশিংটনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

লন্ডনে অভিবাসনবিরোধীতায় লাখো মানুষের বিক্ষোভ: পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, ২৬ পুলিশ আহত

  • ০৫:৫৫ পিএম, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে অভিবাসনবিরোধী এক বিশাল বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন এক লাখেরও বেশি মানুষ। সমাবেশে ইংল্যান্ড ও ব্রিটেনের পতাকা হাতে বিক্ষোভকারীরা পদযাত্রা করেন এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

রবিবার ১৪ সেপ্টেম্বর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডানপন্থি কর্মী টমি রবিনসন নামে এক ডানপন্থি কর্মীর উদ্যোগে আয়োজিত “ইউনাইট দ্য কিংডম” শীর্ষক মিছিলে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন। অপরদিকে, “স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম” নামের পাল্টা সমাবেশে যোগ দেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ। উভয় পক্ষকে আলাদা রাখতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এই সমাবেশ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় এবং অন্তত ২৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, এই বিক্ষোভকে আধুনিক ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় ডানপন্থি সমাবেশগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পুলিশ স্বীকার করেছে, অনুমোদিত রুটের চেয়ে অনেক বড় আকার ধারণ করে বিক্ষোভটি, যা হোয়াইটহলের মতো প্রশস্ত সড়কেও সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। ভিড় সামলাতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের লাথি, ঘুষি, বোতল, ফ্লেয়ার ও অন্যান্য বস্তু নিক্ষেপের মুখে পড়তে হয় পুলিশকে।

সংঘর্ষে ২৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, যার মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। এখন পর্যন্ত ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে পুলিশের দাবি— এটাই কেবল শুরু। সহকারী কমিশনার ম্যাট টুইস্ট বলেন, “যারা সহিংসতায় জড়িত তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই মিছিল ব্রিটেনে টানটান এক গ্রীষ্মের পরিসমাপ্তি টানছে, যেখানে অভিবাসীদের থাকার জন্য নির্ধারিত হোটেলগুলো ঘিরে একের পর এক প্রতিবাদ হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা ইউনিয়ন ফ্ল্যাগ ও ইংল্যান্ডের সেন্ট জর্জ ক্রস ছাড়াও আমেরিকান ও ইসরায়েলি পতাকা নিয়ে হাজির হন। অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের “মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন (এমএজিএ)” টুপি পরে আসেন। তারা প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং “সেন্ড দেম হোম” লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন। অনেকেই শিশুদের সঙ্গে নিয়েও মিছিলে যোগ দেন।

সমর্থকদের উদ্দেশে টমি রবিনসন বলেন, “আজ ব্রিটেনে এক সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সূচনা হলো। এটি আমাদের মুহূর্ত”। তিনি একে “দেশপ্রেমের জলোচ্ছ্বাস” হিসেবে বর্ণনা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের ইলন মাস্কও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিক্ষোভে অংশ নেন। তিনি সরকার পরিবর্তনের আহ্বান জানান এবং দাবি করেন— ব্রিটিশরা তাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ব্যবহার করতে ভয় পাচ্ছেন।

টমি রবিনসনের আসল নাম স্টিফেন ইয়াক্সলি-লেনন। নিজেকে তিনি “রাষ্ট্রীয় অন্যায় উন্মোচনকারী সাংবাদিক” বলে দাবি করেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জনমত জরিপে শীর্ষে থাকা ব্রিটেনের অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকে অবশ্য রবিনসনের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলাও রয়েছে।

সমাবেশে যোগ দেওয়া স্যান্ড্রা মিচেল নামে এক ব্যক্তি বলেন, “আমরা আমাদের দেশ ফেরত চাই, আমরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাই। অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করতে হবে। আমরা টমিকে বিশ্বাস করি।”

অন্যদিকে পাল্টা বিক্ষোভে যোগ দেওয়া শিক্ষক বেন হেচিন বলেন, বিদ্বেষ আমাদের বিভক্ত করছে। যত বেশি মানুষকে আমরা স্বাগত জানাবো, তত বেশি আমরা শক্তিশালী হবো।

এদিকে শনিবার লন্ডনে দুই সমাবেশ ঘিরে প্রায় ১ হাজার ৬০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়, যার মধ্যে ৫০০ পুলিশ সদস্যকে অন্য অঞ্চল থেকে আনা হয়েছিল। একই দিনে বড় ফুটবল ম্যাচ ও কনসার্ট হওয়ায় পুলিশের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। প্রসঙ্গত, এ বছর এখন পর্যন্ত ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ২৮ হাজারের বেশি অভিবাসী ব্রিটেনে পৌঁছেছেন। রেকর্ডসংখ্যক আশ্রয় আবেদন জমা পড়ায় অভিবাসন ইস্যু দেশটির অর্থনীতিকেও ছাপিয়ে রাজনৈতিক এজেন্ডায় পরিণত হয়েছে। সড়কে ইংল্যান্ডের লাল-সাদা পতাকা ও প্রতীক আঁকা ছড়িয়ে পড়েছে। সমর্থকেরা একে জাতীয় গৌরবের প্রকাশ বললেও, বর্ণবাদবিরোধী কর্মীরা একে বিদেশবিরোধী বার্তা হিসেবে দেখছেন।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech