।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
দক্ষিণ চীন সাগরে সৃষ্টি হওয়া শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘রাগাসা’র তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়েছে তাইওয়ান। বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন ‘রাগাসা’র আঘারত কমপক্ষে ১৪ জনের মৃত্যু এবং ১২০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। টাইফুনের প্রভাবে জলাশয় ভেঙে নদী ও নদীর তীরবর্তী এলাকা তলিয়ে গেছে।
বুধবার ২৪ সেপ্টেম্বর রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় সকাল থেকে দ্বীপজুড়ে প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও টানা ভারী বর্ষণ চলছে। টাইফুনের প্রভাবে তাইওয়ানের পাশাপাশি দক্ষিণ চীন সাগরের অপর স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ ভূখণ্ড হংকংয়েও দিনভর প্রবল বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো বাতাস বয়ে যায়। তবে হংকং থেকে এখনো কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
আবহাওয়া দপ্তর জানায়, রাগাসা প্রথম আঘাত হানে সোমবার বিকেল ৩টার দিকে ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ কাগায়ানের বাতানিজ দ্বীপে। ঘণ্টায় ২৩০ কিলোমিটার বেগে বইতে থাকা ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় সেখানে। এরপর মঙ্গলবার রাতের দিকে টাইফুনটি প্রবেশ করে তাইওয়ানের উপকূলে।
তাইওয়ানের জরুরি সেবা সংস্থাগুলো জানায়, নিখোঁজদের সন্ধানে বিপুল সংখ্যক উদ্ধারকর্মী তৎপরতা চালাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
এ অবস্থায় হংকংয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। বিপর্যয়ের কারণে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং স্কুল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।
দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশে ঝড়ের আগেই প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ চীনের শহরগুলোতে আগামী কয়েক ঘণ্টায় এক মাসের সমপরিমাণ বৃষ্টি পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভূমিধসের আশঙ্কা বৃদ্ধি করেছে।
জুহাই শহরের পুলিশ এখনো মেগাফোন ব্যবহার করে মানুষকে ঘরে থাকার জন্য সতর্ক করছে। প্রচণ্ড বৃষ্টি ও ঝড়ের শব্দের কারণে অনেকেই সতর্কবার্তা ঠিকভাবে শুনতে পারছেন না।
টাইফুন ধীরে ধীরে দক্ষিণ চীনের উপকূল বরাবর এগিয়ে যাচ্ছে, তাই বাতাসের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। তবে এখনো ঝড়ের বাতাস এতটাই প্রবল যে অনেকের জন্য সোজা দাঁড়ানোও কঠিন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ চীন সাগরের শক্তিশালী নিম্নচাপ থেকে সৃষ্টি রাগাসা এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, একে ‘সুপার টাইফুন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।