Breaking News:


শিরোনাম :

আমি মানবতাবিরোধী অপরাধ করিনি: বিবিসিকে শেখ হাসিনা

  • ০৮:২১ পিএম, শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫
ছবি: ফাইল ফটো

।।বিকে ডেস্ক।।
জুলাই আন্দোলনের সময় প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত ভারতে পলাতক বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার ১৪ নভেম্বর বিবিসি নিউজ বাংলায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

কয়েকদিনের মধ্যেই বিশেষ ট্রাইব্যুনালে চলমান মামলার রায় ঘোষণার কথা। তার আগে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি (পলাতক শেখ হাসিনা) এই দাবি করেন।

২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট দেশ থেকে পালিয়ে যাবার পর ইমেইলের মাধ্যমে বিবিসিকে দেওয়া প্রথম এই সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, তার অনুপস্থিতিতে যে বিচার চলছে, তা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নিয়ন্ত্রিত “ক্যাঙ্গারু কোর্টের” সাজানো এক “প্রহসন”।

সোমবার দোষী সাব্যস্ত হলে তার জন্য মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তার স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভের সময় শতাধিক হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী ছিলেন তিনি, যা তিনি অস্বীকার করেছেন।

হাসিনার দাবি, এই বিচার শুরু থেকেই “পূর্বনির্ধারিত দোষী সাব্যস্ত রায়ের” দিকে এগোচ্ছিল।

সোমবারের রায়কে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এ রায় বাংলাদেশের জন্য যেমন তাৎপর্যপূর্ণ তেমনি হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা ছাত্রনেতৃত্বের আন্দোলনে নিহতদের স্বজনদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

জাতিসংঘের মানবাধিকার তদন্তকারীরা বলেছেন, ক্ষমতা ধরে রাখার ব্যর্থ প্রচেষ্টায় হাসিনা ও তার সরকারের পরিকল্পিত ও প্রাণঘাতী সহিংসতায় এক হাজার ৪০০ জন পর্যন্ত মানুষ নিহত হন।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, দেশত্যাগের আগের কয়েক সপ্তাহে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি এসব অভিযোগ “সুস্পষ্টভাবে” অস্বীকার করছেন। তিনি বলেন, আমি অস্বীকার করছি না যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল, কিংবা অপ্রয়োজনে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। কিন্তু নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গুলি চালানোর কোনো নির্দেশ আমি কখনও দিইনি।

এই বছরের শুরুতে টেলিফোন আলাপের ফাঁস হওয়া একটি অডিও যাচাই করে বিবিসি আই, যেখানে শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের জুলাইয়ে “প্রাণঘাতী অস্ত্র” ব্যবহারের অনুমোদন দেয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আদালতে সেই অডিওটি বাজানো হয়েছে।

এ বছরের জুলাইয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনসহ হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ পলাতক থাকা কামালের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে। অন্যদিকে আবদুল্লাহ আল-মামুন জুলাইয়ে তার ভূমিকার জন্য দোষ স্বীকার করে রাজস্বাক্ষী হয়েছেন। যদিও তাকে এখনও সাজা দেওয়া হয়নি।

বিচার প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, তিনি নিজের দিক তুলে ধরার সুযোগ পাননি বা নিজের আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেননি। যদিও ভারত থেকে দেশে ফিরে বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত এই প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে “চূড়ান্তভাবে নিশ্চিহ্ন” করতে তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে।

সোমবার তার পক্ষে থাকা আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ন্যায়বিচার ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ জানিয়ে তারা জাতিসংঘে জরুরি আপিল দাখিল করেছেন।

আগামী ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের ওপর আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

বিবিসির পক্ষ থেকে হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে সংঘটিত আরও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়েও জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, যা বিশেষ ট্রাইব্যুনালের আরেক মামলায় বিচারাধীন রয়েছে। সেই মামলাতেও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসিনা।

হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি গোপন কারাগারের (আয়না ঘরের) খোঁজ পাওয়া যায় যেখানে বহু বছর ধরে কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই বন্দিদের আটকে রাখা হয়েছিল। অপহৃত বা এসব কারাগারে আটক থাকা হাসিনার আরও বহু সমালোচক ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অবৈধভাবে হত্যা করারও অভিযোগ রয়েছে।

এর দায় কার ওপর বর্তায় জিজ্ঞেস করা হলে হাসিনা জানান তিনি এসব (আয়না ঘর) সম্পর্কে “জানতেন না”।

নেতৃত্বে থাকাকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের জন্য তার দায়ী থাকার বিষয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি।

“আমার ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করছি। তবে কোনো কর্মকর্তার অপব্যবহারের প্রমাণ যদি থাকে, তবে তা যেন নিরপেক্ষ ও রাজনীতিমুক্ত প্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হয়,” বলেন তিনি।

হাসিনা আর তার সাবেক সরকারের আরও জ্যেষ্ঠ সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক আদালতে বিচার চলছে, যা তারা অস্বীকার করছেন। সংকলিত। সূত্র- বিবিসি বাংলা।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech