।।বিকে ডেস্ক।।
রাষ্ট্র কর্তৃক নির্যাতন বা গুমের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তির বিরুদ্ধে কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ১৪(১)-এর বিষয়ে বাংলাদেশের দেয়া সংরক্ষণী শর্ত বিষয়ক ঘোষণাপত্র প্রত্যাহারের প্রস্তাব জাতিসংঘে গৃহীত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনটি ১৯৮৪ সালে গৃহীত হয়। বর্তমানে ১৭৩টি রাষ্ট্র এই কনভেনশন অনুসমর্থন করেছে। বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে কনভেনশনটিতে অনুসমর্থন দেয়।
এতে করে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন পাওয়ার সুযোগ পাবেন। নির্যাতনের কারণে কেউ মারা গেলে, তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরাও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন।
উল্লেখ্য, গত ২৯শে ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে এই সংরক্ষণী শর্ত প্রত্যাহারের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রেস উইং এর বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনটি ১৯৮৪ সালে গৃহীত হয় এবং বর্তমানে ১৭৩টি দেশ এটি সমর্থন করেছে।
প্রসংগত, বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে কনভেনশনটিতে যোগ দেয়। তবে অনুচ্ছেদ ১৪(১) এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশ বাহামা, ফিজি, নিউজিল্যান্ড, সামোয়া ও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে যোগদানের সময় সংরক্ষণী শর্ত দিয়েছিল।
এই সংরক্ষণী শর্তের কারণে এতদিন রাষ্ট্রীয় নির্যাতন বা গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায্য ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এখন সংরক্ষণী শর্ত প্রত্যাহার হওয়ায় সেই বাধা দূর হলো।
উপদেষ্টা পরিষদ মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এতে মানবাধিকার সংরক্ষণে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে।
পাশাপাশি রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতাও বাড়বে। উল্লেখ্য, এটি বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মীদের দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের পুরোনো দাবি ছিল।
সূত্র:বিবিসি বাংলা