Breaking News:


শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রেনের ওয়াগনে ৬ মৃতদেহ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ দক্ষিণ কোরিয়া গেলেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ ইঞ্জিনে আগুন, ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ নাভারন-সাতক্ষীরা মহাসড়কে কাভার্ডভ্যান ও মোটর সাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ২ গর্ভের শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ করা যাবে না-হাইকোর্ট : রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ হাম ও উপসর্গে আরো ১১ শিশুর মৃত্যু, দেড় মাসে সারা দেশে ৪০৯ শিশুর মৃত্যু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ১০০ উপজেলা ও পৌরসভার প্রার্থী ঘোষণা এনসিপির যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ইরান : জবাব ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলেছেন ট্রাম্প ঈদ উপলক্ষে আজ থেকে সারাদেশে টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেল শুরু

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় নিহত বেড়ে ২৩, অধিকাংশই নারী ও শিশু

  • ১১:৫৩ এএম, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় বাসডুবির ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে ১১ জন নারী, ৮ শিশু ও ৪ জন পুরুষ। ২১ জনের মরদেহ ইতোমধ্যে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন ও অর্থ) তাপস কুমার পাল ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. হাফিজুর রহমান।

নিহতরা হলেন- রাজবাড়ী পৌরসভার ভবানীপুর লালমিয়া সড়ক এলাকার মৃত ইসমাঈল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬১), কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৮নং ওয়ার্ডের মজমপুর গ্রামের মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), রাজবাড়ী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড সজ্জনকান্দা গ্রামের মৃত ডা. আবদুল আলীমের মেয়ে জহুরা অন্তি (২৭), একই গ্রামের কাজী মুকুলের ছেলে কাজী সাইফ (৩০), গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের চর বারকিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (৩২),

কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার সমাজপুর ইউনিয়নের ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে শিশু ইস্রাফিল (৩), গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর বারকিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের মেয়ে সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে ফাইজ শাহানূর (১১), রাজবাড়ী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কেবিএম মুসাব্বিরের ছেলে তাজবিদ (৭), বালিয়াকান্দি উপজেলার পশ্চিম খালখোলা গ্রামের আরব খানের ছেলে গাড়ী চালক আরমান খান (৩১), কালুখালী উপজেলার মহেন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের স্ত্রী নাজমিরা জেসমিন (৩০), রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের সোবাহান মণ্ডলের মেয়ে লিমা আক্তার (২৬),
সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বড় চর বেনি নগর গ্রামের মান্নান মন্ডলের স্ত্রী জোছনা (৩৫), গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের নোয়াধা গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী মুক্তা খানম (৩৮), দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মথুয়ারাই গ্রামের মৃত নূর ইসলামের স্ত্রী নাছিমা (৪০), ঢাকা জেলার আশুলিয়া উপজেলার বাগধুনিয়া পালপাড় গ্রামের মো. নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), রাজবাড়ী পৌরসভার সোহেল মোল্লার মেয়ে সোহা আক্তার (১১),

কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার সমসপুর ইউনিয়নের গিয়াস উদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কাচেরকোল ইউপির নুরুজ্জামানের ছেলে শিশু আরমান (৭ মাস), রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে আব্দুর রহমান (৬), রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের আগমারাই গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে সাবিত হাসান (৮) ও রাজবাড়ী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড ভবানীপুর লালমিয়া সড়ক এলাকার ইসমাইল হোসেন খানের ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান (২৫)।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. হাফিজুর রহমান বলেন, দৌলতদিয়া নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনের মরদেহ রাতেই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি দুজনের মরদেহ পরিবারের সদস্যরা এলে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর পন্টুনে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাসটি ফেরিতে ওঠার মুহূর্তে পন্টুনে জোরালো ঝাঁকুনি লাগলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং বাসটি সরাসরি গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা, ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ উদ্ধারকাজ শুরু করে।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিআইডব্লিউটিএ-এর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ নদী থেকে বাসটি টেনে তুলতে সক্ষম হয়। বাসটি পানির উপরে তুলে আনার পর ভেতর থেকে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীকালে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা নাগাদ আরও ৭ জনের মরদেহ পাওয়া যায়। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।

বাস কাউন্টার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা অভিমুখী এই বাসটিতে চালক ও সহকারীসহ অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর অন্তত ১৭ জন যাত্রী সাঁতরে বা স্থানীয়দের সহায়তায় প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হন। এখনো কয়েকজন নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে ফায়ার সার্ভিস।

এদিকে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের মরদেহ শনাক্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দাফন ও জরুরি সহায়তার জন্য প্রতিটি পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech