।।বিকে ডেস্ক।।
আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় নিজস্ব উচ্চ-মূল্যের তথ্যপ্রযুক্তি তৈরি, বৈশ্বিক সেবা রপ্তানি এবং মৌলিক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে বাংলাদেশ এখনো বেশ পিছিয়ে রয়েছে।
শনিবার ১৬ মে রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ : নতুন সরকার কী ভাবছে’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় রবির হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স সাহেদ আলম প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, গত এক দশকে মোবাইল গ্রাহক, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং ডাটা খরচের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হলেও বাংলাদেশ এখনো একটি ‘প্রযুক্তি ব্যবহারের বাজার’ বা ডিজিটাল কনজাম্পশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।
২০১৫ সালের তুলনায় ২০২৫-২৬ নাগাদ দেশের মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা ৩৯ শতাংশ বেড়ে ১৮ কোটি ৬০ লাখে উন্নীত হয়েছে। যেখানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩৭ শতাংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে মোট জনসংখ্যার ৭৩ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছেছে।
একই সময়ে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ ব্যবহার ৮৬ জিবিপিএস থেকে ১২৭ গুণ বেড়ে প্রায় ১০ হাজার ৯৫৪ জিবিপিএসে দাঁড়িয়েছে এবং গ্রাহক প্রতি মোবাইল ডাটা ব্যবহারের পরিমাণ ১০০ এমবি থেকে ৮০ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮ জিবিতে। প্রবন্ধে তিনি দেখান যে, সংযোগ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় সাফল্য এলেও বাংলাদেশ এখনো মূলত একটি ‘ডিজিটাল কনজাম্পশন বা প্রযুক্তি ব্যবহারের বাজার’ হিসেবেই রয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের মতো উচ্চ-মূল্যের প্রযুক্তি উদ্ভাবন বা সেবা রপ্তানি হাব হিসেবে পুরোপুরি আত্মপ্রকাশ করতে পারেনি। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে টেলিকম খাতের অবদান ৮ শতাংশ থেকে আরও বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব, যদি সঠিক নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
প্রবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়, টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে ৫ জিবি ডাটার খরচ মাথাপিছু জাতীয় আয়ের মাত্র ০ দশমিক ৮৩ শতাংশ, যা বৈশ্বিক সাশ্রয়িতার সূচকে মোবাইল ব্রডব্যান্ডে বাংলাদেশকে ৬ষ্ঠ এবং ফিক্সড ব্রডব্যান্ডে ৩য় স্থানে রেখেছে। বাংলাদেশে প্রতি গিগাবাইট (জিবি) ডাটার গড় দাম মাত্র ৭ সেন্ট (প্রায় ৯ টাকা), যা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের (১২ সেন্ট বা ১৪.৭ টাকা) চেয়েও কম। তবে এই সাশ্রয়ী মূল্যের বিপরীতে ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের মান এবং স্মার্টফোনের পেনিট্রেশন (যা বর্তমানে প্রায় ৫৬ শতাংশ) বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
একই সাথে ইন্টারনেটের ট্রাফিক জেনারেশনে মেটা (ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ) এবং আমাজনের মতো গ্লোবাল ডিজিটাল জায়ান্টদের একচ্ছত্র আধিপত্য দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের মোট মোবাইল ও ফিক্সড ইন্টারনেট ট্রাফিকের একটি বড় অংশই এই প্ল্যাটফর্মগুলো দখল করে রাখছে বলেও জানান সাহেদ আলম।
এমন অবস্থায় নীতি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমেই কেবল টেলিকম খাতকে বাংলাদেশের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলেও উপস্থাপন করেন তিনি।
টিআরএনবির সভাপতিত্বে সমীর কুমার দে’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন টিআরএনবির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান রবিন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।