।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
দু’দিন ধরে পরস্পরকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালানোর পর অবশেষে সহিংসতা বন্ধ করে ফের আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
রবিবার ২৮ জুন (স্থানীয় সময়) যুক্তরাষ্ট্রের এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।
প্রতিবেদনে চানা যায়, হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে মঙ্গলবার ৩০ জুন কাতারের রাজধানী দোহায় বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করেছে দুই দেশ। মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সব বিষয় নিয়ে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা হবে। আপাতত উভয় পক্ষ হামলা থেকে বিরত থাকবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।
গতকাল রবিবার ভোরে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এর কিছুক্ষণ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুদ্ধবিরতির চুক্তি মেনে না চললে ইরানের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল জানায়, রবিবার তারা আবারও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গ্রামে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার লেবাননের সঙ্গে নতুন যুদ্ধবিরতির পর শনিবারও একই ধরনের আরেকটি হামলা চালানো হয়। ইরানের দাবি, বৃহত্তর সমঝোতা কার্যকর রাখতে হলে লেবাননের সংঘাতও বন্ধ করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হরমুজ প্রণালিতে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের নৌবাহিনী হামলা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দেশটির ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রের ডিপো এবং রাডার সিস্টেমে পাল্টা হামলা চালায় মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকোম।
এর পর প্রায় দু’দিনে পরস্পরকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা করে সেন্টকোম এবং ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সেন্টকোমের হামলার জবাব দিতে কুয়েত এবং বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে আইআরজিসি।
তবে ইরানের হামলায় এ দুই দেশের মার্কিন ঘাঁটির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন ওই মার্কিন কর্মকর্তা। কুয়েত এবং বাহরাইনের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।
কুয়েত এবং বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর ২৭ জুন ইরানের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভির মাধ্যমে আইআরজিসি ঘোষণা করেছিল, গত ২৫ জুন ইরানে হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে এবং তার ফলাফল মার্কিন বাহিনীকে ভুগতে হবে। সামনের দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে নরক নেমে আসবে।
আইআরজিসির এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, আমরা খুব সফলভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করেছিলাম। এখন তা স্থগিত আছে, কিন্তু এমন মুহূর্ত যে কোনো সময় আসতে পারে যখন আমরা আর যৌক্তিক আচরণ করব না। আর সত্যিই যদি এমন মুহূর্ত আসে, তাহলে পৃথিবীর মানচিত্রে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরান’ নামে কোনো কিছুর অস্তিত্ব থাকবে না।
প্রসংগত, ১৪ দফার অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তির লক্ষ্য ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাত বন্ধ করা এবং আলোচনার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন ইস্যুর সমাধান খোঁজা। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করাও এই চুক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য।
সূত্র : রয়টার্স/ এক্সিওস