শিরোনাম :
এইচএসসি পরীক্ষা শুরু বৃহস্পতিবার, পরীক্ষার্থী প্রায় ১৩ লাখ মেঘনা নদী থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার ইকুয়েডরকে হারিয়ে নকআউটে টিকে রইলো মেক্সিকো শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা নিষেধ, গণমাধ্যমকে আদালতের নির্দেশনা মানতে হবে : তথ্য উপদেষ্টা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলে ট্রাম্পের উদ্যোগ খারিজ করেছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জুলাই মাসেও জ্বালানি তেলের মূল্য অপরিবর্তিত থাকছে সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস, আজ থেকে কার্যকর ঢাকাসহ দেশের ১৫ জেলায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে, বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই : ইরান হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ২ শিশুর মৃত্যু

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলে ট্রাম্পের উদ্যোগ খারিজ করেছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

  • ১১:২০ এএম, বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার সীমিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেটি খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

মঙ্গলবার ৩০ জুন (স্থঅনীয় সময়) রায়ে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত ৬-৩ ভোটে সেটি খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রত্যেকেরই মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার বহাল থাকবে।

বুধবার ৩০ জুন সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা ৬-৩ ভোটে ওই নির্বাহী আদেশটি বাতিল করেন। একই সঙ্গে সংবিধানের ব্যাখ্যা পরিবর্তনের প্রচেষ্টাও আদালত নাকচ করে দিয়েছে। আদালতের এ রায়কে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির জন্য বড় একটি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ বা নাগরিকত্ব গ্রহণকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিচারিক কর্তৃত্বের আওতাভুক্ত সব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও তারা যে অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন, সেই অঙ্গরাজ্যের নাগরিক।

এই ধারা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী প্রায় প্রত্যেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পান। তবে ট্রাম্প নিয়মটি অবৈধ বা অস্থায়ীভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের সন্তানদের জন্য বন্ধ করার চেষ্টা করছেন।

১৫০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিধান জারি করা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যে এটি বাতিল করেছিলেন। দেশটির নাগরিকত্ব প্রাপ্তির আইন বাতিল করে ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি আদেশ জারি করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে ১৪তম সংশোধনীর এই ব্যাখ্যা একতরফাভাবে পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। ওই আদেশে বলা হয়, যদি কোনো শিশুর মা যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করেন বা বৈধ হলেও সাময়িক ভিসায় থাকেন এবং শিশুর জন্মের সময় বাবা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা না হন, তাহলে সেই শিশু জন্মের সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকত্ব পাবে না।

নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুর বাবা-মায়ের কেউই মার্কিন নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা না হন, তাহলে সেই শিশুকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না দিতে।

কিন্তু বেশিরভাগ বিচারক দেড়শ বছর পুরোনো আইন বাতিলের পক্ষে ছিলেন না। এছাড়া রাজনৈতিক অঙ্গনেও এটির জনপ্রিয়তা ছিল না।

রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ বা সাময়িকভাবে অবস্থানকারী বাবা-মায়ের সন্তানরাও যুক্তরাষ্ট্রের বিচারিক কর্তৃত্বের আওতাভুক্ত। ফলে তারা জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে গণ্য হবে।

তার মতে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার পক্ষে সংবিধানে কোনো ভিত্তি নেই।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নাগরিকত্বকে ”অধিকার ভোগের অধিকার” হিসেবে দেখা হয়েছে। এটি একজন ব্যক্তিকে দেশের রাজনৈতিক সমাজে স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়।

এই রায়ে বিচারপতি রবার্টসের সঙ্গে একমত হন বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র, এলেনা কাগান ও কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন। এছাড়া ট্রাম্পের মনোনীত দুই রক্ষণশীল বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট এবং ব্রেট ক্যাভানাওও সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের পক্ষে অবস্থান নেন।

অন্যদিকে বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো এবং ট্রাম্পের মনোনীত আরেক বিচারপতি নিল গরসাচ ভিন্নমত পোষণ করেন।

গত বছর দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই বৈধ ও অবৈধ—দুই ধরনের অভিবাসন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে একগুচ্ছ নীতির অংশ হিসেবে ওই নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের ওই আদেশ খারিজ করে রায় দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আদালত। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে তোলে। তারা আদালতের কাছে জানতে চেয়েছিল, ১৪তম সংশোধনীতে ”যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী এবং দেশটির বিচারিক কর্তৃত্বের আওতাভুক্ত” ব্যক্তিদের নাগরিক হিসেবে গণ্য করার বিধান বর্তমান পরিস্থিতিতেও একইভাবে প্রযোজ্য কি না।

এ বছরের এপ্রিল মাসে মৌখিক শুনানির সময়ই নয় সদস্যের সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন বিচারপতি ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন।

সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল ডি. জন সাওয়ার আদালতে যুক্তি দেন, সংবিধান সাময়িক ভিসাধারী কিংবা অবৈধভাবে বসবাসকারীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব দেয় না। তার দাবি, বর্তমান সময়ের অবৈধ অভিবাসন পরিস্থিতি অতীতের বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

জবাবে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, ”পৃথিবী নতুন হতে পারে, কিন্তু সংবিধান একই রয়েছে।”

সূত্র : রয়টার্স ও বিবিসি

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech