।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইরানের ওপর টানা সপ্তম দিনের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে হামলায় অনেক বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছয়।
শুক্রবার ১৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র সময় বেলা ৩টায় তারা ইরানের ওপর এই নতুন দফার হামলা শুরু করে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
এদিকে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি (ইসনা) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক এবং এর আশপাশের বেসামরিক এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ইসনার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই অঞ্চলে সরাসরি হামলা চালিয়েছে।
এদিকে ইরানের ওপর চলমান সর্বশেষ নৌ-অবরোধের প্রথম তিন দিনের একটি বিবরণ প্রকাশ করেছে সেন্টকম। সেন্টকম জানিয়েছে, এই তিন দিনে তারা ইরানের চারটি বাণিজ্যিক জাহাজকে অন্য পথে ঘুরিয়ে দিয়েছে, একটি জাহাজকে বিকল করেছে এবং অপর একটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে।
গত মঙ্গলবার ১৪ জুলাই থেকে ইরানের বিভিন্ন বন্দরে জাহাজ প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর নতুন করে এই নৌ-অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে শুক্রবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বরাতে জানান হয়, সর্বশেষ হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করা। তারা আরও জানায়, ইরানের বন্দর অবরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজে অভিযান চালানো হয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও নৌবাহিনীর সহায়তায় ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা, সামরিক সরবরাহ অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাসহ কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
একই সময়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু করেছে। তাদের মতে, হামলায় সেতু, একটি রেলস্টেশন, একটি বিমানবন্দর এবং বন্দরনগরীর পাঁচটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হরমোজগান প্রদেশের বন্দর আব্বাসের পশ্চিমে একটি সেতুতে হামলার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেছে বিবিসি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, এসব হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা পাল্টা হামলায় ওমানে মার্কিন সামুদ্রিক নজরদারি রাডার, কুয়েত ও বাহরাইনের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তু এবং সিরিয়ায় মার্কিন বিশেষ অভিযান কমান্ডের একটি ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে।
আইআরজিসির দাবি, জর্ডান সীমান্তের কাছে সিরিয়ার আল-তানফ ঘাঁটিতে হামলাটি দুই দিন আগে ইরানি সেনা নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা সিরিয়ার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে শুক্রবার চীন ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংঘাত বন্ধ করে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন।
তার ভাষায়, ইরান এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে চায় বলে জানিয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা চালালে তার পরিণতি ভোগ করতেই হবে।
অন্যদিকে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, যে কোনো চুক্তি যদি ইরানের স্বার্থ রক্ষা না করে, তাহলে তা মেনে চলার কোনো কারণ নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।