শিরোনাম :
চীনের পেংশুই জেলায় ভয়াবহ ভূমিধস : ৮ জন নিহত, ৩৪ জন নিখোঁজ কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম ঢাকা’র সভাপতি সাঈদ সাধারণ সম্পাদক জসিম কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে আসামির পলায়ন- মহিলা কারারক্ষীসহ বরখাস্ত ৭ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ সংবাদ সম্মেলন ফের ভাঙা হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে : ফখরুল ইরানে বেসামরিক অবকাঠামোতে মার্কিন হামলা : জবাবে আইআরজিসির পাল্টা হামলার দাবী মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের: ৩ প্রতিষ্ঠানের খাদ্যপণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের ৮ জেলায় ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা

জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে : ফখরুল

  • ১১:১৪ এএম, শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে ডেস্ক।।
জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে- বলেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার ১৭ জুলাই জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা আজকে অনেকগুলো প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি। আমাদের বিরোধী দল থেকে বলা হচ্ছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি সংসদে আদায় না হলে রাজপথের ফয়সালা হবে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী গণভোট প্রসঙ্গে বলেন, যে গণভোটের কথা বলা হচ্ছে- সেই গণভোটের একটা অংশে তো আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই হয়নি। আমরা বারবার করে যে কথা বলতে চাচ্ছি— উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারে ভোটে যে প্রতিনিধিত্ব হবে সেই বিষয়টাতে আমরা কখনোই একমত হইনি এবং সে সময়ে এ নিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে মর্মে আমি নিজেই বিবৃতি দিয়েছিলাম। সেই সংস্কার কমিশন, তারা যে কথাগুলো সেদিন যেভাবে নিয়ে এসেছেন, আমাদের সম্মতি ছাড়া তারা নিয়ে এসেছেন।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের বইটা যদি আপনারা পড়েন, সেখানে প্রতিটি জায়গায় বলা আছে, যে দল নির্বাচিত হবে তারা তাদের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সেটাকে বাস্তবায়িত করবে। আমরা বারবারই এই কথা বলে এসেছি এবং উই আর কমিটেড। আমরা ৩১ দফাতে যেমন কমিটেড, ঠিক তেমনিভাবে আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়নেও কমিটেড। কিন্তু সেটা আমরা যেভাবে চেয়েছি সেভাবে আমরা বলছি। এখানে বিরোধী দল সম্পূর্ণভাবে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে, তারা বলেছে- আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাই না।

সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে। সংস্কার এদেশে কারা এনেছে? বিএনপি এনেছে। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র বিএনপি নিয়ে এসেছে, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা দেশে বিএনপি নিয়ে এসেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে বিধান সেই বিধান আমরাই সংসদে সারারাত কাজ করে পাশ করেছিলাম। আজকে যখন এ সমস্ত কথাগুলো বলা হয়, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য বলা হয় বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, এখন বিরোধী যারা আছেন তারা অনেকে বিভিন্ন রকম মুখরোচক কথা বলে জনগণকে উত্তেজিত করবার চেষ্টা করছেন। জনগণের চেয়ে ভালো তো আর কেউ বোঝেন না। আমরা যতই মনে করি, জনগণ কিন্তু সবচেয়ে ভালো বোঝেন। তারাই সেই সিদ্ধান্তটা সবচেয়ে ভালো নেবেন যে আমরা সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে কী বলেছি।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে বিতর্ক হচ্ছে সংবিধান সংস্কার নাকি সংবিধান সংশোধন— এ বিষয়টি নিয়ে। আমরা সব সময় বলেছি, আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই। কখনোই বলিনি যে, আমরা সংবিধান নতুন করে লিখতে চাই বা মৌলিকভাবে পরিবর্তন করতে চাই।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ম্যানিফেস্টোর ওপর ভিত্তি করে জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে। বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। সুতরাং ওই জায়গায় কোনও রকমের বিভ্রান্তির অবকাশ নেই।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমি মনে করি যে, বিরোধী দল শুধুমাত্র তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই জুলাই সনদকে তারা ব্যবহার করতে চায়। ‘আমরা কিন্তু চাই না যে, জুলাই শুধু ক্ষমতার যাওয়ার জন্য আরেকটা রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হোক।

বিএনপিকে নিয়ে করা সমালোচনার জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, সম্পর্কে অনেকে অনেক কথা বলেন। বিএনপির ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, বিএনপির প্রায় ১৭শ’ নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছে। এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে বিএনপির কয়েক হাজার মানুষ হত্যার শিকার হয়েছে। সুতরাং এই কথাগুলো বারবার করে আমাদের বলতে হয় এজন্য যে, অনেকে এটা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমরা লিবারাল গণতন্ত্রের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছি, সেই লিবারেল গণতন্ত্রের পক্ষে আমরা যেতে চাই। আমার প্রায় একটা কথা মনে হয় যে, আমরা এখান (লিবারেল ডেমোক্রেসি) থেকে সরে যেতে চাই কেন? ডেমোক্রেসি থাকতে আমাদের সমস্যাটা কোথায়? আমরা গণতন্ত্রের থাকি। বিভাজনের রাজনীতি না করি। ’

তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, যুদ্ধ করেছিলাম, আমরা স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আবার ২৪শে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াই করে আমরা ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছি। এখন একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা যদি সবাই মিলে কাজ করি, তাহলে আমরা আমাদের দীর্ঘদিনের সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech