।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
টানা বেশ কিছু দিন ধরে সংঘাতের পর এবার হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কবল থেকে রাজধানী সানাকে পুনরুদ্ধার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। গত কাল সোমবার ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের উপ প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল সামির আল-সাবরি এ ঘোষণা দিয়েছেন।
সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর ইয়েমেনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল ইয়েমেন টিভিতে ভাষণ দিয়েছেন মেজর জেনারেল সামির আল-সাবরি।
সেই ভাষণে তিনি বলেছেন, সানা পুনরুদ্ধার করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সামনে অনেক চমক আছে; এখনই আমরা সেসব প্রকাশ করছি না।
একই দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় একই তথ্য জানিয়েছেন ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মাজিদ আল নুজাইলি-ও। এক্সবার্তায় তিনি বলেছেন, “আজ আমরা ঘোষণা করছি যে, আমাদের লক্ষ্য সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন—সন্ত্রাসী হুথি বিদ্রোহীদের কবল থেকে ইয়েমেনকে মুক্ত করা এবং সানাকে সকল ইয়েমেনবাসীর রাজধানী হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।”
এদিকে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে তাদের গণমাধ্যম আনসারুল্লাহ।
সোমবার হুথিরা অভিযোগ করে, সৌদি আরব ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার মধ্যে একটি কারাগারে চালানো হামলায় প্রাণহানির ঘটনাও রয়েছে বলে দাবি তাদের।
বাব আল-মান্দাব প্রণালীর কাছে আরও কিছু এলাকা দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার মধ্যেই তারা এ হামলা চালায়।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
মঙ্গলবার আনসারুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে এক পোস্টে জানায়, ‘ইয়েমেনি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সৌদির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।’
অন্য একটি পোস্টে তারা জানায়, হামলায় আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কিং খালিদ বিমানঘাঁটি এবং আবহা ও জিজান এলাকায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বৃহৎ তেল কোম্পানি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তবে হুথিদের এসব দাবির বিষয়ে সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
প্রসংগত, বাব আল-মান্দাব প্রণালী লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে ইরান লোহিত সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ওই অবরোধ চলছে।
হুথিদের সংবাদমাধ্যম আল-মাসিরাহ জানায়, জাওফ প্রদেশের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক হাসান সাবুলা বলেছেন, সোমবার একটি কারাগারে চালানো হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ২০ জন বন্দি নিখোঁজ রয়েছেন।
হুথিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা সাবা এর আগে জানিয়েছিল, নিহতদের মধ্যে ওই কারাগারে স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে আসা এক শিশুও ছিল।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তারপর মাত্র এক বছরের মধ্যে ২০১৫ সালে ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হুথি রাজধানী সানা দখল করে। হুথিরা রাজধানী দখলের পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদিতে পালিয়ে যান। তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে ইয়েমেন-সৌদি সেনাবাহিনী।
বর্তমানে ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের অর্ধেক হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে আছে, বাকি অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। ইয়েমেনের সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের অনুগত। কয়েক বছর আগে সেই প্রেসিডেন্সিয়াল সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।