।।বিকে রিপোর্ট।।
জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর বাজারে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবে দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১০০% থেকে ১৪২% পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলেও এটি সাধারণ ও বেসরকারি খাতের মানুষের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন। কারণ বেসরকারী বা অন্য বাকী কোটি কোটি জনসাধারণের এমন শতভাগ আয়বৃদ্ধির কোন সম্ভাবনা নেই। যা নিয়ে সাধারণ নুষ ও চাকরিজীবীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
যদিও সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেল বাস্তবায়ন করার ফলে বাজারে বৈষম্য বা আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
গত বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মহাখালীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী একথা জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেল প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত ১১ বছর তাদের বেতন সমন্বয় করা হয়নি। মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় এটি একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। তাছাড়া পে-স্কেল একবারে নয়, আগামী বছরের জুলাই পর্যন্ত ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। ফলে বাজারে বৈষম্য বা আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা নেই।
বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে মাসে প্রায় ৭৮ লাখ পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দুই ঈদে খোলা ট্রাকে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়মিত ওএমএস কার্যক্রম চালু রয়েছে।
একই সঙ্গে বাজারে যেন কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, সেজন্য ব্যবসায়ীদের ঋণপত্র (এলসি) খোলা ও আমদানির সরবরাহ পাইপলাইন সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন পে স্কেলের সুফল ধরে রাখতে হলে সরকারকে অবশ্যই বাজার মনিটরিং জোরদার করা, পণ্য সরবরাহ চেইন ঠিক রাখা এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এই অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আপনার কি কোনো নির্দিষ্ট খাতের (যেমন: বাসাভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার বা বেসরকারি খাতের প্রভাব) বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানার প্রয়োজন রয়েছে?