।।বিকে ডেস্ক।।
রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ বা নির্বিচারে ডাম্পিং করা হলে পুরো ঢাকা অবরুদ্ধ করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অটোরিকশার মালিক ও শ্রমিক নেতারা।
একই সঙ্গে চার্জিং পয়েন্টগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি ব্যাটারিচালিত রিকশা পুরোপুরি বন্ধ বা ডাম্পিং না করে, চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বৈধ লাইসেন্স ও রোড পারমিটের আওতায় আনতে হবে।
সোমবার ৫ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হন শত শত ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক। সেখানে তারা প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখলে প্রেস ক্লাব ও এর আশপাশের এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির কথা বলা হলেও বিক্ষোভ চলাকালে কাকরাইল মোড়ে সদরঘাট-গাজীপুর রুটে চলাচলকারী ‘ভিক্টর ক্লাসিক গোল্ড সিটি’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে বাসের যাত্রী ও সাধারণ পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া, যেসব অটোরিকশাচালক আন্দোলনে যোগ না দিয়ে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করছিলেন, আন্দোলনকারীরা তাদের মারধর করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিক্ষোভে ‘রাস্তা আছে যেখানে, অটো চলবে সেখানে’, ‘ভাত দে, কাপড় দে, নইলে অটো চলতে দে’ এবং ‘পুলিশের হয়রানি বন্ধ কর’ ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া হয়।
সমাবেশে চালকরা অভিযোগ করেন, ট্রাফিক পুলিশ রাস্তায় অটোরিকশা পেলেই হয়রানি করছে এবং নির্বিচারে গাড়ি ডাম্পিং করছে। প্রতিটি গাড়ি জব্দের পর পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা বা মামলা দেওয়া হচ্ছে। চালক সুমন ও মিল্লাদ মিয়া জানান, একদিকে রাস্তায় হয়রানি, অন্যদিকে চার্জিং স্টেশনগুলোর বিদ্যুৎ কেটে দেওয়ায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাটারিচালিত রিকশা-ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি এস এ আবু বকর বলেন, অনেক চালক ও ক্ষুদ্র মালিক ৬৫ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়ে এসব রিকশা কিনেছেন। হুট করে ডাম্পিংয়ের নামে নির্বিচারে গাড়ি জব্দ করা হলে লাখ লাখ মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে পথে বসবে। তিনি বলেন, অবৈধ বা নতুন আসা গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় তাদের কোনো আপত্তি নেই, তবে ডাম্পিংয়ের নামে ঢালাও হয়রানি মেনে নেওয়া হবে না।
ঢাকা মহানগর মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে নেতারা সরকারকে একটি নিয়মতান্ত্রিক সমাধানের প্রস্তাব দেন। তারা জানান, ঢাকার বাইরে থেকে আসা রিকশাগুলো চিহ্নিত করে শহরে প্রবেশ বন্ধ করা হোক। তবে যারা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় এই পেশায় আছেন, তাদের গাড়ি যাচাই করে বৈধতার সুযোগ দিতে হবে। সরকার চাইলে চালকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে লাইসেন্স প্রদান এবং নির্দিষ্ট রুট ও সময় নির্ধারণ করে দেওয়ার মাধ্যমে এই খাতকে শৃঙ্খলায় আনতে পারে।
নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো উপেক্ষা করে যদি কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকে, তবে প্রয়োজনে ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে এবং এর সার্বিক দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।