।।বিকে ডেস্ক।।
কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক তানভীর সুলতান মিয়াকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে তানভীর সুলতান মিয়া, তার ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোরশেদ এবং প্রতিষ্ঠানটির রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
রবিবার ১৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা পোস্টকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান।
তিনি জানান, পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি রুজু করেছে এবং ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে, অধিকতর তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।
উল্লেখ্য,শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উখিয়ার ইনানীর পাটোয়ারটেক সৈকতে ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে’ এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে চলছিল কাঠ ও বাঁশের তৈরি এই ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্টটি।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফায়িজান আহম্মেদ। তাঁরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। এ ছাড়া নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯) নামে ঢাকার আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের এক শিক্ষিকা এবং জিহাদ হাওলাদার ও আকিবুল ইসলাম নামের আরও দুই পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় দগ্ধ আরও ছয়জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দিন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানান, প্রাথমিকভাবে রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনতলা ভবনটির নিচতলায় রেস্তোরাঁ এবং ওপরের দুই তলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। কাঠের তৈরি হওয়ায় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।
এই মর্মান্তিক প্রাণহানির পেছনে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার চিত্র উঠে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানিয়েছেন, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার কোনো ছাড়পত্র ছিল না। গত জুনে পরিদর্শনের পর স্থাপনাটিকে অনিরাপদ উল্লেখ করে সতর্কতামূলক নোটিশ দেওয়া হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
শুধু ফায়ার সার্ভিস নয়, রিসোর্টটির কউকের (কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) অনুমোদনও ছিল না। কউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিন জানান, বৈধ অনুমোদন না থাকায় নোটিশ দেওয়া হলেও মালিক তানভীর আহমেদ অবৈধভাবে এর কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ, প্রাণহানি ও রিসোর্টের অনুমোদনের বিষয়গুলো বিশদভাবে খতিয়ে দেখতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।