গাজায় হামলার প্রতিবাদে হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ

  • ১০:৫২ এএম, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত, ফাইল ফটো

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
যুদ্ধ বিরতি ভেঙ্গে নতুন করে গাজায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ভয়াবহ হামলার প্রতিবাদে ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ করেছেন ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনকারীরা।

একই সাথে তারা ট্রাম্প প্রশাসনকে শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার ১৯ মার্চ এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।

প্রতিবাদ কর্মসূচির সময় ইসরায়েলে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বন্ধ এবং গাজা-পশ্চিমতীরে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের অবসানের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। গাজার যুদ্ধবিধ্বস্তদের প্রতি সমর্থনের চিহ্ন হিসেবে বিক্ষোভকারীদের অনেকেই কেফিয়েহ নামের ফিলিস্তিনি স্কার্ফ পরেছিলেন।

তাদের বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ডও নিয়ে সমাবেত হয়। সেসব প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— ‘ইসরায়েলে সব ধরনের মার্কিন সহায়তা বন্ধ কর’, ‘স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র চাই’, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো বোমায় নিহত হচ্ছে ফিলিস্তিনিরা’ প্রভৃতি বক্তব্য।

সর্বশেষ জানা গেছে, সোমবার রাতে শুরু হওয়া ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই এটিই ইসরায়েলের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। রাতভর চলা এই হামলায় হতাহতরা চিকিৎসা সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

রেড ক্রসের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, গাজার হাসপাতালগুলো উপচে পড়ছে হতাহতদের ভিড়ে।

উল্লেখ্য, এর আগে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা ১৬ মাসের ইসরায়েলি গণহত্যায় গাজার প্রায় সব বড় হাসপাতালই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং যুদ্ধবিরতির প্রতি সম্মান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে গতকাল এক বার্তায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, এই হামলা কেবল ‘শুরু মাত্র’ এবং হামাসের সঙ্গে ভবিষ্যতে যাবতীয় আলোচনা হবে যুদ্ধের মধ্যে।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধাদের অতর্কিত হামলার জবাব দিতে ওই দিন থেকেই গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। মধ্যস্থতাকারী ৩ দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও ইরাকের ব্যাপক প্রচেষ্টার ফলে প্রায় ১৫ মাস ধরে ভয়াবহ অভিযানের পর গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি দিতে সম্মত হয় ইসরায়েল।

চুক্তির প্রথম পর্বের মেয়াদ ছিল ৬ সপ্তাহ। সেই মেয়াদ সম্প্রতি শেষ হয়েছে; তারপর থেকে দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে সমস্যায় পড়েছে ইসরায়েল ও হামাস।

কারণ হামাস চাইছে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, অন্যদিকে ইসরায়েলের আশঙ্কা— গাজা থেকে সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নিয়ে অদূর ভবিষ্যতে নিজেদের সংগঠিত করে ফের ইসরায়েলে হামলা চালাবে হামাস।

এর মধ্যে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দ্বৈত নাগরিক এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সেনা সদস্য ইদান আলেক্সান্দারসহ চার জন দ্বৈত নাগরিকের মরদেহ ইসরায়েলকে ফেরত দেয় হামাস। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে ইদান আলেক্সান্দার ও বাকি ৩ জনকে ইচ্ছাকৃতভাবে খুন করেছে হামাস যোদ্ধারা, তবে হামাস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এই নিয়ে দু’পক্ষের টানাপোড়েনের মধ্যেই গত সোমবার রাতে গাজায় ফের সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি  

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech