।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইউক্রেনে গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুতিনের দেশ এ হামলায় ৫৭৪টি ড্রোন এবং ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
বৃহস্পতিবার ২১ আগস্ট রাতভর চালানো এসব হামলায় কমপক্ষে একজন নিহত এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ট্রান্সকারপাথিয়া অঞ্চলে ১৮ জন আহত হয়েছেন।
যুদ্ধবিরতির জন্য চলমান কূটনৈতিক চাপের মধ্যে মস্কো কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইউক্রেনে তার সবচেয়ে বড় হামলা চালালো।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, রাতভর ৫৭৪টি ড্রোন এবং ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রাশিয়ান বাহিনী। আরও জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো বেশিরভাগ আক্রমণই ভূপাতিত করেছে। তবে বেশ কয়েকটি আক্রমণ ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে, যার ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং ভবনগুলোর ক্ষতি হয়েছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, এসব হামলা প্রমাণ করছে যুদ্ধ শেষ করা এখন কতটা জরুরি।
এদিকে যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি পুতিন ও জেলেনস্কিকে এক টেবিলে বসানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
গভর্নর ম্যাকসিম কোজিটস্কি জানিয়েছেন, পোল্যান্ডের সীমান্ত থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভে, ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত হন। এ সময় তিনজন আহত হন এবং ২৬টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাঙ্গেরি এবং স্লোভাকিয়ার সীমান্তের কাছে মুকাচেভোতে রাশিয়ার হামলায় ১৫ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে, রয়টার্স সংবাদ সংস্থা জানায়, এই হামলায় শহরে অবস্থিত একটি মার্কিন ইলেকট্রনিক্স প্রস্তুতকারকের গুদামও ধ্বংস হয়ে গেছে। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, সেই ভবনটি থেকে প্রচণ্ড ধোঁয়া বেরুচ্ছে।
আঞ্চলিক গভর্নর মাইরোস্লাভ বিলেটস্কি বলেছেন যে প্ল্যান্টটি ভোক্তা ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন করত।
এক্সে একটি পোস্টে, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেছেন, প্ল্যান্টটি সম্পূর্ণ বেসামরিক স্থাপনা যার প্রতিরক্ষা বা সামরিক বাহিনীর সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
এদিকে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, এটি জুলাইয়ের পর সবচেয়ে বড় আক্রমণ। সাধারণত রাশিয়ার হামলা পূর্বাঞ্চলে বেশি হয়, তবে সর্বশেষ হামলা ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলেও আঘাত হেনেছে।
জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মস্কো অর্থপূর্ণ আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখায়নি, তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রাশিয়ার উপর আরও কঠোর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা।