শিরোনাম :
শিশু হাসপাতালে চিকিৎসকের কক্ষে ধূমপান, দেখেই বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে আগুন, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের কারণ জান‌তে চে‌য়ে সৌ‌দি‌কে চি‌ঠি সৌদিতে ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, চরম বিপাকে ১৬ হাজার যাত্রী পূজা এলে নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হবে না, এমন বাংলাদেশ চাই : নাহিদ ইসলাম ইস্তাম্বুলে ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা দুর্গাপূজা উপলক্ষে সোনামসজিদ বন্দরে ৮ দিন আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও আনন্দ-উৎসবে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য: প্রধানমন্ত্রী

ইরাক থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র, স্বাগত জানালেন ট্রাম্প

  • ১১:০৫ এএম, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে ডেস্ক।।
ইরাকে থাকা সর্বশেষ মার্কিন সেনাদল ও আন্তর্জাতিক জোটের সদস্যরা দেশটি ত্যাগ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।

বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিল বিমানঘাঁটি থেকে অবশিষ্ট মার্কিন সেনা ও তাদের সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম সুশৃঙ্খলভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ দুই দশক ধরে চলা যুদ্ধ ও বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের পর এই প্রত্যাহার সম্পন্ন হলো। এটিকে ইরাক সরকার নিজেদের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের পথে একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

২০০৩ সালে তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী বৈশ্বিক যুদ্ধের’ অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট ইরাকে প্রথম সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই অভিযানের ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালে দেশটিতে মার্কিন সেনার সংখ্যা সর্বোচ্চ প্রায় এক লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছায়। এরপর ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার করে নিলেও ২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস বা ইসলামিক স্টেটের উত্থানের পর পুনরায় সেনা মোতায়েন করতে বাধ্য হয় তারা।

২০১৭ সালে আইএসের দখলে থাকা ভূখণ্ডের পতনের পর থেকে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক জোটের ভূমিকা ধীরে ধীরে কেবল পরামর্শদাতা পর্যায়ে নেমে আসে। গত বছরের শেষ দিকে অবশিষ্ট কয়েকশ বিদেশি সেনাকে এরবিলে একত্র করা হয়েছিল।

পেন্টাগন জানিয়েছে, এই সেনা প্রত্যাহার মূলত ইরাকে আইএসকে একটি সংগঠিত সামরিক শক্তি হিসেবে পরাজিত করার ১২ বছরের অভিযানের চূড়ান্ত সাফল্য। এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধকালীন জোটের অভিযান থেকে ইরাকের নেতৃত্বাধীন নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন সূচিত হলো। ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সম্পর্কের মাধ্যমে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মার্কিন সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের পর এখন থেকে ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব পুরোপুরি দেশটির সরকারের ওপর বর্তেছে। বিশেষ করে আইএসের অবশিষ্ট সদস্য দমন এবং ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে মোকাবিলার মতো চ্যালেঞ্জগুলো এখন ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী এবং কুর্দিস্তানের পেশমার্গা বাহিনী নিজস্ব নেতৃত্বেই পরিচালনা করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের মিত্রদের প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে।

এদিকে, বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে সেনা প্রত্যাহারের এই চূড়ান্ত ধাপ সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। ২০২০ সালেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ বা তাঁর ভাষায় ‘ব্যয়বহুল নরকযাত্রা’ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং সাবেক ইরাকি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির মধ্যে চূড়ান্ত সেনা প্রত্যাহারের রূপরেখাটি সম্মত হয়। ট্রাম্প এই দিনটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক উভয় দেশের জন্যই একটি বিরাট বিজয় এবং আইএসের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাফল্যের স্মারক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech