শিরোনাম :
পে স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পরিকল্পনা দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার ঘোষণা জামায়াত আমিরের ভারতে বসে দেশে ফেরার ছক কষছেন আ’ লীগ নেতারা ঐতিহাসিক বিজয়ে তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা ভোট বয়কটের কোনো পরিকল্পনা নেই ১১ দলীয় জোটের: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি: যমুনার সামনে বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো গুলি ছোঁড়েনি জাবেরের ওপর হামলা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক : তাসনিম জারা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষনা ইরানের সঙ্গে খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে, বললেন ট্রাম্প প্যারিসে টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং: ৮.০২ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য অর্ডার পেল বাংলাদেশ

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সব মুসলিম দেশকে আহ্বান জানিয়ে ‘বিরল’ ফতোয়া জারি

ছবি: প্রতীকি

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
দখলদার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই (জিহাদ) করতে সমস্ত মুসলিম ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশকে আহ্বান জানিয়ে এক বিরল ধর্মীয় ফরমান বা ফতোয়া জারি করেছেন বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট মুসলিম বিশেষজ্ঞ।

ইসলামি সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারসের (আইইউএমএস) মহাসচিব ও প্রভাবশালী কুর্দি সুন্নি ইসলাম পণ্ডিত শেখ আলী আল-কারাদাঘির নেতৃত্বে ফতোয়া জারি করেছেন খ্যাতিমান বেশ কয়েকজন ইসলামিক ব্যক্তিত্ব।

শুক্রবার ৪ এপ্রিল মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট আই এ তথ্য জানায়।

গাজায় অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ১৭ মাস ধরে চলা ভয়াবহ যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে সমস্ত মুসলিম দেশকে তাদের ম্যান্ডেট অনুসারে ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যা ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে অবিলম্বে সামরিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানান।

মিশরীয় ইসলামী পণ্ডিত শেখ আলী আল-কারাদাঘি শরিয়া ও ফিকাহ এবং ইসলামী অর্থনীতির বিশেষজ্ঞ। তিনি দোহার কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়া ও ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের আইনশাস্ত্রের অধ্যাপক। ইসরায়েলকে প্রতিহত করতে প্রায় ১৫ দফা ফরমান বা ফতোয়া জারি করেছেন তিনি।

পূর্বে এ সংস্থাটির প্রধান ছিলেন প্রখ্যাত ও প্রভাবশালী ইসলামিক ব্যক্তিত্ব ইউসুফ আল-কারদভী। আলী আল-কারদাঘি মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে সম্মানিত স্কলারদের একজন। বিশ্বব্যাপী থাকা ১৭০ কোটি সুন্নি মুসলিমের মধ্যে তার এ ফতোয়া বেশ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

১৫ ধারার এ ফতোয়ায় আলী আল-কারদাঘি আরও বলেছেন, গাজা ধ্বংস হওয়ার সময়ও আরব ও ইসলামিক বিশ্বের সরকারের ব্যর্থতা, ইসলামিক আইন অনুযায়ী, আমাদের গাজার নির্যাতিত ভাইদের প্রতি বড় অন্যায়।

তিনি ফতোয়ায় আরও বলেছেন, গাজার মুসলমানদের নির্মূলে শত্রুরা (ইসরায়েল) যা কারছে সেটিকে কোনোভাবেই সমর্থন করা যাবে না।

ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা যাবে না। সুয়েজ খাল, বাব আল-মান্দাব, হরমুজ প্রণালী, অথবা অন্য কোনো স্থল, সমুদ্র বা আকাশপথ দিয়ে তাদের অস্ত্র পরিবহণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।”— যোগ করেন তিনি।

এছাড়া ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আকাশ, স্থল এবং সমুদ্র পথে অবরোধ আরোপের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

তারা বলেছেন, যেসব মুসলিম দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের ‘শান্তি চুক্তি’ আছে সেগুলো যেন পুনর্বিবেচনা বা পর্যালোচনা করা হয়। এরমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়ে যেন তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মুসলিমদের ওপর হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে বাধ্য হন।

গাজার মুসলমানদের নির্মূলের চেষ্টা করা কাফের শত্রু ইসরায়েলকে সমর্থন করা নিষিদ্ধ, তা সে যে ধরণের সমর্থনই করুক না কেন।

ইসরায়েলিদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা নিষিদ্ধ। সুয়েজ খাল, বাব আল-মান্দাব, হরমুজ প্রণালী, অথবা অন্য কোনো স্থল, সমুদ্র বা আকাশপথের মতো বন্দর বা আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে তাদের জন্য অস্ত্র পরিবহন সহজতর করা নিষিদ্ধ।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারস যে ফতোয়া জারি করেছে, সেটিতে গাজার মুসলিমদের সমর্থনে দখলদার শত্রুর (ইসরায়েল) জন্য আকাশ, স্থল ও সমুদ্র অবরোধের দাবি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

যেসব মুসলিম দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের ‘শান্তি চুক্তি’ আছে সেগুলো যেন পুনর্বিবেচনা বা পর্যালোচনা করার কথা বলেছেন তারা। একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগ্রাসন নির্মূল ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় মুসলিমদের ওপর হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে বাধ্য করতে মার্কিন মুসলিমদেরকে চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানান তারা।

ফরমান বা ফতোয়া হলো ধর্মীয় জ্ঞানের অধিকারী একজন সম্মানিত ব্যক্তির দেওয়া বাধ্যতামূলক ইসলামী আইনি রায়। এটি সাধারণত কুরআন বা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর বাণী ও ইসলামী অনুশীলনের ওপর ভিত্তি করে প্রণয়ন করা হয়।

ফতোয়ায় আলী আল-কারাদাঘি মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে সম্মানিত ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের একজন। পৃথিবীর ১৭০ কোটি সুন্নি মুসলিমের কাছে ব্যাপক গুরুত্ব বহন করে তার ফতোয়াগুলো। আরও ১৪ জন ইসলামিক ব্যক্তিত্ব কারাদাঘির ফতোয়াকে সমর্থন জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার আগে নির্বাচনী প্রচারণার সময় বারবার যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি ও অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কথা বলেন ট্রাম্প।

কিন্তু গত মাসে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ফের যুদ্ধ শুরু করতে ইসরায়েলকে সবুজ সংকেত দেন তিনি।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিল করার পর থেকে শত শত শিশুসহ এক হাজার ২০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরায়েল। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৫০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নারী ও শিশু।  

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech