Breaking News:


শিরোনাম :
খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রা পিছিয়ে গেল খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্ব তুলে ধরে সরকারি ডকুমেন্টারি প্রকাশ ট্রাক ও মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষ: ২ যুবকের মৃত্যু সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি স্থগিত : রবিবার থেকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু ক্যারিবীয় সাগরে আবারও মার্কিন হামলা, নিহত ৪ বাংলাদেশি টাকার আজকের বিনিময় হার ‘পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫’ সহ বেশ কয়েকটি অধ্যাদেশ অনুমোদন আসছে ৩ থেকে ৮ টি শৈত্যপ্রবাহ: তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাচ্ছেন খালেদা জিয়া : মধ্যরাতে কিংবা আগামীকাল সকালে রওনা ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে আরও ৩৬ আসনে দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করল বিএনপি

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কার্গো ফ্লাইট চালু হচ্ছে ২৭ এপ্রিল

  • আপলোড টাইম : ১১:২৯ এএম, বুধবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৫
  • ১৪৯ Time View
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কার্গো ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যা সাতটায় ৬০ টন পণ্য নিয়ে সিলেট থেকে স্পেনের উদ্দেশে উড়াল দিবে বিমানের একটি কার্গো ফ্লাইট।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পণ্য রপ্তানিতে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নতসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ে

ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের নির্দেশনা স্থগিতের চেষ্টা বা পাল্টা কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে দেশের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেই নজর দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে পণ্য রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সিলেটের পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকেও কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ উদ্দিন আহমদ গণমাধ্যম’কে জানান, কার্গো কমপ্লেক্স ও টার্মিনাল আগে থেকেই প্রস্তুত করা হয়েছে। সম্প্রতি ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এটি। ২৭ এপ্রিলের ফ্লাইটের জন্য বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারসহ সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

অবশ্য সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কার্গো ফ্লাইট চালুর উদ্যোগে আগে থেকেই নেওয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছে বেবিচক কর্মকর্তারা। প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকায় সেখানে কাঁচা সবজির চাহিদা বেশি।

সিলেট অঞ্চলের শাক-সবজি, আনারস, লেবুজাতীয় ফল, সাতকড়া, পান, ফ্রোজেন ফিস, সুগন্ধি চাল, বেতের আসবাবপত্র, নকশিকাঁথা এবং কুটির শিল্পের বিশাল বাজার রয়েছে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে। বিগত ৬ বছর ধরে সিলেট থেকে কার্গো ফ্লাইট বন্ধ থাকায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সেই পণ্য পাঠাতেন রপ্তানিকারকরা। তাই, এখানে ফ্লাইট চালুর দাবি জোরালো হচ্ছিল বেশ কিছুদিন ধরে।

গত জানুয়ারি মাসে ঢাকায় বলাকা ভবনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. মো. সাফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্রুত কার্গো ফ্লাইট চালুর দাবি জানান সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী। অতীতে শেখ হাসিনার আত্মীয় শেখ কবির হোসেনের কারণে এই ফ্লাইট বন্ধ হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ড অ্যাসোসিয়েশন সাব-কমিটির চেয়ারম্যান হিজকিল গুলজার বলেন, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে কার্গো ফ্লাইটে পণ্য পরিবহনের দাবি ছিল ব্যবসায়ীদের। সেই দাবি পূরণ হতে চলছে জেনে আমরা খুবই আনন্দিত।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে আটটি কার্গো এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম চলছে। এর সবই ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে পরিচালিত হয়।

তবে, সিলেটে প্যাকেজিং হাউজ নির্মাণ না হলে সিলেট বা আশপাশের জেলাগুলোর রপ্তানিকারকরা খুব একটা লাভবান হবেন না বলে মনে করেন সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক খন্দরকার সিপার আহমদ। তিনি বাসস’কে বলেন, কয়েক বছর আগে ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে কার্গো কমপ্লেক্স নির্মাণ করে বেবিচক। কিন্তু, সিলেটে প্যাকেজিং হাউজ না থাকায় এটি চালু করা যাচ্ছিল না। ব্যবসায়ীরা ঢাকার শ্যামপুরে পণ্য নিয়ে প্যাকেজিং করে আবার সিলেটে এনে রপ্তানি করলে খরচ বেড়ে যাবে।

তবে তিনি কার্গো ফ্লাইট চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এর সুফল পেতে দ্রুত প্যাকেজিং হাউজ নির্মাণের দাবি জানান।

প্রথম ফ্লাইটে কেবল গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি হলেও প্যাকেজিং হাউজ করা গেলে দেশের যে কোনো স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা সবজিসহ যে কোনো পণ্য সিলেটে নিয়ে সহজে কার্গো ফ্লাইটে পাঠাতে পারবেন। এতে খরচ ও ভোগান্তি দুটোই কমবে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগির আহমদ জানান, সিলেটের সঙ্গে চট্টগ্রামের বেশ কিছু পণ্যের আদান-প্রদান হয়। খাতুনগঞ্জে সিলেটের অনেক পণ্য আসে। যদি সিলেট থেকে কার্গো ফ্লাইট চালু হয়, তাহলে দুই বিভাগের ব্যবসায়ীদের অর্থ ও সময় সাশ্রয় হবে।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান,‘ভারত থেকে রপ্তানি করলে পরিবহন ব্যয় কম লাগত। গত ১৫ মাসে ৪৬ কোটি ডলারের পণ্য ভারতের বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে রপ্তানি হয়েছে। এর ৫০ শতাংশ তৈরি পোশাক। বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করলে খরচ প্রায় দ্বিগুণ। এ বিষয়ে সরকারকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। এখন সিলেট বিমানবন্দর দিয়ে যদি রপ্তানি সহজ করা হয়, তাহলে একই পরিমাণ পণ্য সিলেট দিয়ে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

বেবিচক কর্মকর্তারা জানান, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ক্যাটেগরি ১-এ উন্নীত হয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের (আইকাও) একটি প্রতিনিধি দল বিমানবন্দর দু’টি পরিদর্শন করে এ ঘোষণা দেয়। এ দুটি বিমানবন্দর দিয়ে কার্গো ফ্লাইট চালু হলে একদিকে যেমন রপ্তানিকারকদের ভোগান্তি কমবে, তেমনি বাড়তি অর্থ খরচের হাত থেকে রক্ষা পাবেন তারা। পাশাপাশি পণ্য দ্রুত আমদানিকারক দেশে পৌঁছানো যাবে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech