।। বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।
তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে গোটা ইউরোপ। কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে, কোথাও ৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি, বেলজিয়াম, স্পেন, জার্মানি, সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপের বেশির ভাগ দেশ এখন তাপপ্রবাহের কবলে।
সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ফ্রান্সের। দেশটির অর্ধেকের বেশি অঞ্চল তীব্র তাপপ্রবাহের বিপর্যস্ত। প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে গিয়ে সম্প্রতি কয়েকদিনে ফ্রান্সে পানিতে ডুবে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার ২৩ জুন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু এক জরুরি বৈঠকের আগে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন।
তিনি জানান, গত ১৮ জুন থেকে কোনো রকম লাইফগার্ড বা নজরদারিহীন জলাশয়গুলোতে সাঁতার কাটতে গিয়ে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। মূলত প্রচণ্ড গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে ফ্রান্সের সব বয়সী মানুষ দলে দলে নদী ও খালে নামছেন।
ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি জানান, তীব্র গরম থেকে বাঁচার এই আকুলতা তিনি বুঝতে পারছেন; তবে অনিরাপদ বা নিষিদ্ধ এলাকাগুলোতে সাঁতার কাটার বিষয়ে সবাইকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।
গরমের কারণে ফ্রান্সে স্কুল, কলেজ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৮৪৫টি স্কুল ইতিমধ্যেই বন্ধ করা হয়েছে। ১৮০০টি স্কুলে পাঠদান হচ্ছে সকালের দিকে।
সোমবার ফ্রান্সের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা আগের সব রেকর্ড ছাপিয়ে গেছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, মধ্য ফ্রান্সের পইটিয়ার্সে তাপমাত্রা ৪১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে। দেশের পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই চরম আবহাওয়ার মধ্যেই দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় বা দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় একটি এলাকায় মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
সেখানে একটি বাড়ির সামনে গাড়ির ভেতর থেকে ২ ও ৪ বছর বয়সী দুই শিশুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত গরমের কারণে মা তাদের গাড়ির ভেতরে রেখে গিয়েছিলেন।
গরমের তীব্রতা থেকে নাগরিকদের বাঁচাতে প্যারিস মিউনিসিপ্যালিটি এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে, তারা ২৫ বছরের কম এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সিনেমা হলের ফ্রি টিকিট দিচ্ছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে ইউরোপ।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ‘ওমেগা ব্লক’ নামের একটি বিশেষ আবহাওয়া বিন্যাসের কারণে ইউরোপের বড় অংশজুড়ে তাপ বলয় তৈরি হয়েছে, যা দিনে দিনে তাপমাত্রা বাড়িয়ে তুলছে। তার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দাবদাহ ও ঝড় আরও বিধ্বংসী রূপ নিয়েছে।
সুত্রঃ বিডি জার্নাল