Breaking News:


শিরোনাম :
তফসিল ঘোষণা করায় নির্বাচন কমিশনকে প্রধান উপদেষ্টার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন নির্বাচনের তফসিল বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য নতুন অধ্যায় : মির্জা ফখরুল নির্বাচন ও গণভোটের তফসিলকে স্বাগত জানালো জামায়াত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা: ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ও গণভোট স্কুলে ভর্তির সুযোগ পেল ৩ লাখ শিক্ষার্থী, ভর্তি শুরু ১৭ ডিসেম্বর, বেসরকারিতে শূন্য আসন ৮ লাখ সৌদিজুড়ে ঝড়-বৃষ্টি, বন্যার সতর্কবার্তা দিলো এনসিএম হজযাত্রীদের বিমান টিকেটের ওপর আবগারি শুল্ক মওকুফ করল এনবিআর প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটার নিবন্ধন ৩ লাখ পেরিয়ে মধ্যরাতে পরপর ‍দুবার কেঁপে ওঠে সিলেট স্কুলে ভর্তির লটারি আজ: ফল জানা যাবে যেভাবে

কুয়েট উপাচার্যকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু : ৫৮ ঘণ্টা পর অনশন ভাঙলেন শিক্ষার্থীরা

  • আপলোড টাইম : ১২:১৯ পিএম, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৫
  • ২১২ Time View
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার।

বুধবার ২৩ এপ্রিল দিবাগত রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত সংকট নিরসন এবং শিক্ষা কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার লক্ষ্যে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং উপউপাচার্যকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। অনতিবিলম্বে একটি সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে এ দুটি পদে নতুন নিয়োগ দেওয়া হবে।

আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম চালু রাখার স্বার্থে জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকদের মধ্য থেকে একজনকে সাময়িকভাবে উপাচার্যের দায়িত্ব অর্পণ করা হবে।

অণ্যদিকে অবশেষ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ এবং উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ শরীফুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সংবাদ শুনে ৫৮ ঘণ্টা পর অনশন ভেঙেছেন কুয়েটের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার দিবাগত রাতে ইউজিসির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর তানজিম উদ্দীন খান শিক্ষার্থীদের জুস পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান। এসময় শিক্ষার্থীরা উল্লাস শুরু করেন, বিভিন্ন শ্লোগান দেন এবং আনন্দ মিছিল বের করেন।

উপাচর্যের পদত্যাগের বার্তাটি শোনার পরপরই ক্যাম্পাসে উল্লাসে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টার প্রাঙ্গণে আনন্দ মিছিল বের হয়। আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ফেসবুক পেজ ‘কুয়েট ১৯’-এ পোস্ট করা হয়, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমরা জিতেছি। আমার ভাইরা জিতেছে। মাছুদ পদত্যাগ করেছে!’

এর আগে কুয়েটের ৩৭ শিক্ষার্থীর সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া সভায় বুধবার বিকেলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৪ মে থেকে চালু করা হবে। বুধবার (২৩ এপ্রিল) কুয়েট সিন্ডিকেটের ১০২তম (জরুরি) সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, গত ১৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ১০১তম (জরুরি) সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী ৪ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালু করা এবং ২ মে আবাসিক হলসমূহ খোলার বিষয়ে বলা হয়। বুধবার (২৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ১০২তম (জরুরি) সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহ ২ মে-এর পরিবর্তে আজ ২৩ এপ্রিল বিকেলে খোলা হবে। আর অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৪ মে থেকে চালু করা হবে।

এর আগে বুধবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা কুয়েটে আসেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় শিক্ষা উপদেষ্টা শিক্ষার্থীদের দাবি শোনেন এবং তাদের অনশন ভেঙে আইনের ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ করেন। শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, তদন্ত কমিটি করা হয়েছে, কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই অনুযায়ী জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

তিনি এ সময় অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তবে শিক্ষার্থীরা উপদেষ্টার আশ্বাসে আশ্বস্ত না হয়ে কুয়েট উপাচার্যকে অপসারণ না করা পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তিন সদস্যের কমিটি এসে সকাল থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। অবশেষে রাতে অনশনের প্রায় ৫৮ ঘন্টা পর অনশন ভাঙলেন শিক্ষার্থীরা।

প্রসংগত, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েটে ছাত্রদল-যুবদলের সঙ্গে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত হন। এ ঘটনার পর ২৫ ফেব্রুয়ারি সিন্ডিকেট সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম ও হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১৩ এপ্রিল বন্ধ থাকা কুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।

পরদিন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবন ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২৫ ফেব্রুয়ারি সব আবাসিক হল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।

১৩ এপ্রিল থেকে শিক্ষার্থীরা হল খোলার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। ১৪ এপ্রিল রাতে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৭ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হলে আন্দোলন আরও ঘনীভূত হয়। গত রোববার শিক্ষার্থীরা ভিসি’র পদত্যাগে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলে এবং তা পূরণ না হওয়ায় কুয়েট উপাচার্যকে অপসারণের এক দফা দাবিতে ২২ এপ্রিল সোমবার থেকে তাঁরা আমরণ অনশন শুরু করেন।  

বুধবার শিক্ষা উপদেষ্টা গিয়ে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ভিসির পদত্যাগের আলটিমেটামে দেন। তবে কুয়েট ভিসি বলেছিলেন, সরকার তাকে না সরালে নিজে থেকে পদ ছাড়বেন না। শেষ পর্যন্ত সরকার-ই তাকে ভিসির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech