Breaking News:


শিরোনাম :
তফসিল ঘোষণা করায় নির্বাচন কমিশনকে প্রধান উপদেষ্টার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন নির্বাচনের তফসিল বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য নতুন অধ্যায় : মির্জা ফখরুল নির্বাচন ও গণভোটের তফসিলকে স্বাগত জানালো জামায়াত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা: ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ও গণভোট স্কুলে ভর্তির সুযোগ পেল ৩ লাখ শিক্ষার্থী, ভর্তি শুরু ১৭ ডিসেম্বর, বেসরকারিতে শূন্য আসন ৮ লাখ সৌদিজুড়ে ঝড়-বৃষ্টি, বন্যার সতর্কবার্তা দিলো এনসিএম হজযাত্রীদের বিমান টিকেটের ওপর আবগারি শুল্ক মওকুফ করল এনবিআর প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটার নিবন্ধন ৩ লাখ পেরিয়ে মধ্যরাতে পরপর ‍দুবার কেঁপে ওঠে সিলেট স্কুলে ভর্তির লটারি আজ: ফল জানা যাবে যেভাবে

পশ্চিম তীরে ২২টি নতুন ইহুদি বসতি স্থাপনের ঘোষণা ইসরাইলের

  • আপলোড টাইম : ১১:৩২ এএম, শুক্রবার, ৩০ মে, ২০২৫
  • ৭১ Time View
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
গাজায় যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মধ্যে ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীরে আরও ২২টি নতুন ইহুদি বসতি স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ২৯ মে দেশটির অর্থমন্ত্রী ও চরমপন্থি নেতা বেজালেল স্মোটরিচ এ ঘোষণা দেন। জেরুজালেম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

স্মোটরিচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, নতুন এই বসতিগুলো হবে উত্তর পশ্চিম তীরে। যদিও সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানাননি তিনি।

তা সত্ত্বেও ইসরাইলের কট্টরপন্থি ইয়েশা কাউন্সিলের প্রধান ইসরাইল গাঞ্জ এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ঐতিহাসিক এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট বার্তা দেয় যে—আমরা শুধু থেকে যেতে চাই না, বরং এখানেই ইসরাইল রাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী করতে চাই।

ইসরাইলি গণমাধ্যমের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, এই বসতিগুলোর মধ্যে কিছু অবৈধ আউটপোস্টকে বৈধ করা হবে। আবার কিছু নতুনভাবে নির্মাণ করা হবে।

সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এলো, যখন ইউরোপের একাধিক দেশ পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ না হলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ব্রিটেন ও প্রতিবেশী দেশ জর্ডান উভয়ই এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। লন্ডন এটিকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের পথে ‘ইচ্ছাকৃত বাধা’ বলে অভিহিত করেছে।

পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকে জাতিসংঘ নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ বলে নিন্দা করেছে। এটি ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে দেখা হয়।

পশ্চিম তীরে ২২টি নতুন বসতি স্থাপনে দেশটির নিরাপত্তা পরিষদ অনুমোদন দিয়েছে। অতি-ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন, যিনি নিজেই একজন বসতি স্থাপনকারী। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও এ ঘোষণা দিয়েছেন, যিনি বসতি স্থাপনকারী সম্প্রদায়গুলোর দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন।

স্মোট্রিচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে বলেন, আমরা বসতি স্থাপনের জন্য একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জুডিয়া ও সামেরিয়ায় ২২টি নতুন সম্প্রদায়, সামেরিয়ার উত্তরে নতুন করে বসতি স্থাপন করা হবে এবং ইসরাইল রাষ্ট্রের পূর্ব অক্ষকে শক্তিশালী করা হবে।

কাটজ বলেন, এই উদ্যোগ এই অঞ্চলের চেহারা বদলে দেবে এবং আগামী বছরগুলোতে বসতির ভবিষ্যৎ তৈরি করবে।

এক বিবৃতিতে হামাস ইসরাইলের বিরুদ্ধে সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ফিলিস্তিনি ভূমিকে ইহুদি করণের অভিযোগ করেছে।

হামাস বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক ইচ্ছার স্পষ্ট অমান্য এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাবের গুরুতর লঙ্ঘন।

প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থি লিকুদ পার্টি এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে একটি মানচিত্রও প্রকাশ করেছে, যেখানে ভূখণ্ডজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ২২টি স্থান দেখানো হয়েছে।

এদিকে পশ্চিমা-সমর্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও গাজা-ভিত্তিক সংগঠন হামাস— দু’পক্ষই দখলদার ইসরাইলের এ সিদ্ধান্তের কঠোর নিন্দা জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনাহ অভিযোগের সুরে বলেন, এটি একটি বিপজ্জনক উসকানি। এই উগ্র কট্টরপন্থি ইসরাইলি সরকার স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সব পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা করছে’।

তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রতি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।

অন্যদিকে হামাস নেতা সামি আবু জুহরি ইসরাইলের এহেন সিদ্ধান্তকে ‘নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অংশ’ বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ইসরাইলের এ ঘোষণার জবাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দখলকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ৭ লাখ ইহুদি বসতি স্থাপনকারী বাস করেন। অন্যদিকে সেখানে ফিলিস্তিনি জনগণের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ।  ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে জর্ডানের কাছ থেকে ইসরাইল এই অঞ্চলগুলো দখলে করে নেয়। এর মধ্যে পূর্ব জেরুজালেমকে সংযুক্ত করলেও পশ্চিম তীরে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করেনি।

দখলদার ইসরাইলের হাতে জাতিগত নিধনের শিকার ফিলিস্তিনিরা অবশ্য পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা অঞ্চলকে একটি ভবিষ্যত স্বাধীন রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech