Breaking News:


প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু

  • আপলোড টাইম : ১২:১৭ পিএম, সোমবার, ২৬ মে, ২০২৫
  • ৯৪ Time View
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আজ থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতে গিয়েছেন। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি মানা না হলে এই কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য চলবে।

সোমবার ২৬ মে থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’।

এ কর্মসূচিতে দেশের ছয়টি সহকারী শিক্ষক সংগঠন একত্রিত হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই তারা বেতন বৈষম্য ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে অসংগতি নিয়ে আন্দোলন করে আসছেন, কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এর আগে রবিবার ২৫ মে তিনদফা দাবি আদায়ের চলমান কর্মবিরতি কর্মসূচি শেষে সংগঠনটি পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি ঘোষণা করে।

ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, আমাদের দাবি এখনও পূরণ হয়নি। তাই সোমবার থেকে আমরা স্কুল না গিয়ে কর্মবিরতি চালাব।

শিক্ষকদের তিন দফা দাবি হলো : কনসালটেশন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক পদকে এন্ট্রি পজিশন ধরে ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, ১০ ও ১৬ বছরের পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পেতে বন্ধিঘন জটিলতা দূরীকরণ, প্রধান শিক্ষক পদে ১০০ শতাংশ পদোন্নতি এবং দ্রুত পদোন্নতি প্রক্রিয়া।

উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রধান শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে বেতন পান, যেখানে সহকারী শিক্ষকরা রয়েছেন ১৩তম গ্রেডে। নতুন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষকরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দাবি করছেন— সহকারী শিক্ষকদের শুরুর বেতন হতে হবে ১১তম গ্রেডেই।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজারেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার শিক্ষক কর্মরত। এর মধ্যে সহকারী শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লাখ। ফলে তাদের এই কর্মবিরতির কারণে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিক্ষকদের দাবির প্রেক্ষিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদের নেতৃত্বে একটি কনসালটেশন কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সুপারিশ ও আদালতের একটি রায়ের আলোকে নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব তৈরি হয়েছে। তবে শিক্ষক সংগঠনগুলো বলছে, এই প্রস্তাব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এতে শিক্ষকদের ন্যায্যতা উপেক্ষা করা হয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech