।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২৪২ আরোহীর মধ্যে ২৪১ আরোহীর নিহত হয়েছেন, আহত ১ জন যাত্রীকে উদ্ধার করেছেন। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ১২ জুন দুপুরে সেখানকার সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের উদ্দেশে বিমানটি রওনা দেয়।
উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পরই এটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানে যে ২৪২ আরোহী ছিলেন তাদের মধ্যে ২৩০ জন ছিলেন সাধারণ যাত্রী। আর বাকি ১২ জন ছিলেন ক্রু। বিমানটিতে করে যুক্তরাজ্যে যাচ্ছিলেন ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ, ৭ জন পর্তুগিজ এবং একজন কানাডিয়ান নাগরিক।

আহমেদাবাদ সিটি পুলিশ কমিশনার জিএস মালিক বার্তাসংস্থা এপিকে এর আগে জানান, দুর্ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে বিমানটির কোনো আরোহী বেঁচে নেই।
তিনি বলেন, মনে হচ্ছে বিমান বিধ্বস্তে কেউ বেঁচে নেই। এটি আছড়ে পড়েছে আবাসিক এলাকায়। এতে স্থানীয় কিছু মানুষও হয়ত মারা গেছে। সব মিলিয়ে কতজনের মৃত্যু হয়েছে সেটি নিরূপণ করা হচ্ছে।
পরবর্তীতে জানা যায় অলৌকিভাবে একজন বেঁচে গেছেন।
ভারতের এ ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা গেছে, বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে উড্ডয়নের পর অনেকটা দুলতে দুলতে বিমানটি এগিয়ে যাচ্ছে। এর কিছুক্ষণ পরই এটি বিধ্বস্ত হয়। এয়ার ইন্ডিয়ার এ বিমানটি সেখানকার একটি মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে আঘাত হানে।
ভারতের বিমান পরিবহন মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু কিঞ্জারাপু এ দুর্ঘটনায় ‘স্তম্ভিত ও মর্মাহত’ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন।
এএফপি’র একজন সাংবাদিক জানান, আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের ওপর দিয়ে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটিতে দুইজন পাইলট ও ১০ জন কেবিন ক্রুসহ মোট ২৪২ জন আরোহী ছিলেন।
ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন জানায়, বিমানটি একটি ‘মেডে’ (জরুরি সহায়তা) সংকেত পাঠানোর পরপরই বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি বিমানবন্দরের সীমানার বাইরে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
বিমান চলাচল বিষয়ক এক বিশেষজ্ঞ সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, বিমানটি উড্ডয়ন করার সঙ্গে সঙ্গে সম্ভবত এটিতে কয়েকটি পাখি আঘাত হেনেছিল। এতে করে পূর্ণ উড্ডয়নের জন্য যে পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন ছিল বিমানটি সেটি হারিয়ে ফেলেছিল। ফলে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও বিমানটি আর উপরের দিতে নিতে পারেননি পাইলট।
সাবেক ক্যাপ্টেন সৌরভ ভাটনাগর নামের এ বিশেষজ্ঞ বলেছেন, প্রথমত মনে হচ্ছে, একাধিক পাখির ধাক্কায় দুটি ইঞ্জিনই বিকল হয়ে যায়। উড্ডয়নটি নিখুঁত ছিল। কিন্তু ল্যান্ডিং গিয়ারটি উপরে তোলার আগেই বিমানটি নিচে নামা শুরু করে। এমনটি সাধারণত হয় যখন ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় অথবা বিমান আকাশে থাকার সামর্থ হারিয়ে ফেলে। তদন্তে আসল কারণ বেরিয়ে আসবে।