।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে তিন দিনের এক সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ।
সোমবার ২৮ এপ্রিল ক্রেমলিন সূত্রে জানানো হয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি ৮ মে সকালে শুরু হয়ে ১১ মে পর্যন্ত চলবে।
আকস্মিক এ ঘোষনা সর্ম্পকে জানা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির বিরুদ্ধে রাশিয়ার বিজয় উদযাপনের সময় হিসেবে এই ৩ দিনের যুদ্ধবিরতি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
মস্কো থেকে এএফপি জানায়, এই ঘোষণা এমন এক সময় এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তিন বছর ধরে চলা এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে পুতিনকে ‘গুলি বন্ধ করার’ এবং ‘চুক্তি সই করার’ আহ্বান জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউস কূটনৈতিকভাবে সংঘাত অবসানের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা করতে যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করে চলেছে, তবে রুশ কর্মকর্তাদের সাথে একাধিক দফা আলোচনা সত্ত্বেও তারা ক্রেমলিনের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো ছাড় আদায় করতে সক্ষম হয়নি।
ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে’ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ৮ থেকে ১০ মে পর্যন্ত ‘সমস্ত যুদ্ধ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
তবে ইউক্রেন এখনও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়া বিশ্বাস করে যে, ইউক্রেনেও এই উদাহরণ অনুসরণ করা উচিত। যদি ইউক্রেন পক্ষ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে, তবে রুশ বাহিনী যথাযথ এবং কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানাবে।
এছাড়া, রাশিয়া আবারও শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর জন্য প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। এই আলোচনার উদ্দেশ্য ইউক্রেন সংকটের মূল কারণ দূর করা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক স্থাপন করা।
ক্রেমলিন গত মাসে ইস্টারের সময়ও ৩০ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছিল। উভয় পক্ষই সংঘর্ষের কিছুটা কমার কথা জানিয়েছিল। তবে একে অপরকে শত শত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছিল।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করে। বর্তমানে দেশটির প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা রাশিয়ার দখলে। যার মধ্যে ২০১৪ সালে মস্কোর দখলে নেওয়া ক্রিমিয়া উপদ্বীপও রয়েছে। ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত বা আহত হয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশই সেনা সদস্য।