Breaking News:


শিরোনাম :
চট্টগ্রামকে হারিয়ে বিপিএল চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে অবশ্যই আমাদের গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে জামায়াত সরকার গঠন করলে দেশ চাঁদাবাজ মুক্ত হবে: শফিকুর রহমান জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক, এটাকে অশনিসংকেত হিসেবে দেখি: ফরহাদ মজহার যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী তারাই ‘না’ ভোট চাচ্ছে : স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা পল্টনে স্কুলে শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতন, ব্যবস্থাপক কারাগারে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড স্থাপন করবে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট: মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনের আহ্বান নির্বাচন কমিশনের মাগুরায় ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভাঙচুর ১৬ ঘন্টায় ৭ জেলায় সমাবেশ, লাখো মানুষের ঢল: ভোরে ঢাকায় ফিরলেন তারেক রহমান

রাশিয়ার ৮০তম বিজয় দিবস পালন : কুচকাওয়াজে পুতিনের পাশে সি  

  • আপলোড টাইম : ০১:১০ পিএম, শনিবার, ১০ মে, ২০২৫
  • ৮৮ Time View
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের জয় উপলক্ষে রাশিয়ার ৮০তম বিজয় দিবস পালন করে মস্কো।

শুক্রবার ৯ মে মস্কোর রেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজের মাধ্যমে বিজয় দিবস উদযাপন করে রাশিয়া।

যার নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।  রাশিয়ার রাজধানী মস্কো লক্ষ্য করে ইউক্রেনের হামলার কয়েকদিন পর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে এই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।

কুচকাওয়াজ পরিদর্শন মঞ্চে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পাশে ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। দুজনেই বেশ প্রাণোচ্ছ্বল। সামনে মস্কোর রেড স্কয়ার দিয়ে কুচকাওয়াজ করে যাচ্ছেন হাজার হাজার সেনাসদস্য। প্রদর্শন করা হচ্ছে অত্যাধুনিক সব অস্ত্র।

বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজের সময় পুতিনের সঙ্গে চীনা প্রেসিডেন্ট ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন দেশের নেতারা। সুদূর ব্রাজিল থেকে উড়ে এসেছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা। এ ছাড়া ছিলেন উত্তর কোরিয়ায় সামরিক কর্মকর্তারা। এদিন দেশটির রাজধানীয় পিয়ংইয়ংয়ে রুশ দূতাবাস পরিদর্শনে যান উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উন।

রেড স্কয়ারে আজকের কুচকাওয়াজে অংশ নেন রাশিয়ার ১১ হাজার ৫০০ সেনাসদস্য ও কর্মকর্তা। তাঁদের মধ্যে দেড় হাজার জন ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। কুচকাওয়াজে প্রথমবারের মতো প্রদর্শন করা হয় সামরিক ড্রোন। ছিল ট্যাংকসহ বিভিন্ন সাঁজোয়া যান। এ ছাড়া সামনে আনা হয় রাশিয়ার ‘ইয়ারস’ আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র। সেগুলো পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতে সক্ষম।

কুচকাওয়াজের সময় সরাসরি ধারাভাষ্য করা হচ্ছিল। এ সময় বলা হয়, রেড স্কয়ারে ল্যানসেট, গেরান–২, অরলান–১০ ও অরলান–৩০ নামের ড্রোন প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে গেরান–২ কামিকাজে বা আত্মঘাতী ড্রোন। এটি রাশিয়ায় তৈরি হলেও নকশা করেছে ইরান। ইউক্রেনের হামলা চালাতে গেরান–২ ড্রোন ব্যাপকহারে ব্যবহার করেছে মস্কো।

শুক্রবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয় উদ্যাপনকালে মস্কোর কেন্দ্রে দেখা গেছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, ছিল নানান বিধিনিষেধও।

পুতিনের ভাষণ ও এক মিনিট নীরবতার আগে রুশ স্থলবাহিনীর প্রধান ওলেগ সালিয়াকভ রেড স্কয়ারের কুচকাওয়াজে ১১ হাজার সেনাকে নেতৃত্ব দেন, এই সেনাদের মধ্যে ইউক্রেইনে লড়াই করা দেড় হাজার সেনাও ছিল।

রুশ প্রেসিডেন্ট তার বক্তৃতায় বলেন, রাশিয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শিক্ষা মনে রেখেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে ইউক্রেইনে মস্কোর এখনকার সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গও টেনেছেন, যে অভিযান এখন চতুর্থ বছর পার করছে।

পুতিন পরে তার ভাষণে আরও বলেন, রাশিয়া নাৎসিবাদ, রুশোফোবিয়া, ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে এক অবিনশ্বর বাধা ছিল, থাকবে। তিনি কিইভের শাসকদের ‘নাৎসি’ অ্যাখ্যা দেন। পুরো দেশ ইউক্রেইনে সামরিক অভিযানের পক্ষে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়বিচার আমাদের পক্ষে।

এদিনের কুচকাওয়াজে শতাধিক চীনা সেনাও অংশ নিয়েছেন। তাদের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পোশাকে ছিল কমলা-কালো সেইন্ট জর্জ রিবন (ফিতা), রাশিয়া যাকে তাদের সামরিক শক্তিমত্তার প্রতীক মনে করে। এই রিবন রাশিয়ার প্রতিবেশী অনেক দেশেই এখন নিষিদ্ধ।

‘সম্মিলিত পশ্চিমের’ বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ মস্কো ও বেইজিংয়ের মধ্যে সম্পর্ক এখন ইতিহাসের যে কোনো সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে, বলেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

চীনের পাশাপাশি প্রাচ্যের আরও দেশের সঙ্গে যে রাশিয়া এখন সখ্য বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করছে কুচকাওয়াজে উত্তর কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও মঙ্গোলিয়ার সেনাদলের উপস্থিতি তা স্পষ্ট করেছে।

এ সময় উত্তর কোরিয়ার সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে করমর্দন করেন পুতিন। তাঁদের রণকৌশলের প্রশংসা করেন। ইউক্রেনের হাত থেকে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চল মুক্ত করতে রুশ সেনাদের পাশপাশি উত্তর কোরিয়ার সেনারাও লড়াই করেছেন বলে সম্প্রতি জানিয়েছে ক্রেমলিন।

রাশিয়াকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানাতে শুক্রবার উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনও পিয়ংইয়ংয়ে অবস্থিত রুশ দূতাবাসে যান। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক যে এখন অনন্য উচ্চতায় তা কিমের এই সফরেই বোঝা যায়।

ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়, গতকালের বিজয় দিবসে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলাসহ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত বিভিন্ন দেশ, আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার নেতাদের উপস্থিত থাকা এটিই দেখিয়েছে যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মস্কোর সাবেক মিত্ররা দূরে সরে গেলেও, রাশিয়া এখনো একঘরে হয়ে যায়নি।

বিজয় দিবস ঘিরে ইউক্রেনে তিন দিনের যুদ্ধবিরতিও ঘোষণা করেন পুতিন। পুতিনের তিন দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু হয় ৮ মে। আজ শনিবার তা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এর মধ্যে প্রথম দুই দিন ইউক্রেনে বড় কোনো হামলা চালায়নি মস্কো। তবে কিয়েভের দাবি, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে তাদের ওপর হামলা হয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech