শিরোনাম :
দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে ফিরে ‘আসছেন’ তথ্য উপদেষ্টা দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মার তীব্র ভাঙন, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ বিরোধীদলীয় নারী সদস্যদের পোশাক নিয়ে বিএনপি এমপির মন্তব্যে সংসদে উত্তাপ দীনেশ ত্রিবেদীর ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বক্তব্য কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত- জামায়াতের উদ্বেগ চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান: ১৯ জুন জেনেভায় চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংসদে আইন ও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন দেশের ১৩টি অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে, রয়েছে বৃষ্টি–বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা বিআরটি প্রকল্প নিয়ে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতায় ইরানে বিক্ষোভ

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মার তীব্র ভাঙন, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

  • ১১:২১ এএম, সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
ছবি: ঢাকা পোষ্ট

।।বিকে ডেস্ক।।
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙন নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত দুই দিনে প্রায় ৫০ মিটার এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

বিশেষ করে দৌলতদিয়া ১, ২ ও ৩নং ফেরি ঘাট সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দেওয়ায় নদী তীরবর্তী বসত বাড়ি, স্থাপনা এবং স্থানীয় জনজীবন হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙনের কারণে নদী পাড়ের বাসিন্দারা চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ১, ২ ও ৩ নং ফেরি ঘাটের বিভিন্ন অংশে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। কোথাও কোথাও নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে পাড়ের মাটি। এতে নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারগুলো নিজেদের ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা চান্দু মোল্লা বলেন, আমাদের বাড়ি নদীর খুব কাছেই। রাতে ঘুমাতে গেলেও ভয় লাগে, এই বুঝি ঘর নদীতে চলে গেল। সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। দ্রুত নদী শাসনের ব্যবস্থা করে আমাদের বসতবাড়ি রক্ষা করা হোক।

আরেক বাসিন্দা মজিরন বিবি বলেন, আমরা গরিব মানুষ, আমাদের দেখার যেন কেউ নেই। কয়েক দফা ভাঙনের কারণে আগেই অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছি। এখন আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। শুধু আশ্বাস শুনি, কিন্তু ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো কাজ চোখে পড়ছে না। সব সময় ভয় হয়, কখন আমাদের ঘরবাড়িও নদীতে চলে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আকিরজন বেগম বলেন, নদী ভাঙনের কারণে আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। সন্তানদের নিয়ে নিরাপদে থাকার কোনো নিশ্চয়তা নেই। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহা ব্যবস্থাপক সালাহ উদ্দিন বলেন, দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট দীর্ঘদিন ধরেই পদ্মার ভাঙন প্রবণ এলাকা। প্রায় প্রতি বছরই এখানে নদী ভাঙন দেখা দেয়। বর্তমানে ৩নং ফেরিঘাটের পেছন দিকেও ভাঙন শুরু হয়েছে। বিষয়টি নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকও ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করছি। বর্তমানে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, নদী ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রয়োজনীয় কারিগরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত কুমার জানান, তারা দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাটসহ গোয়ালন্দের পদ্মা নদী তীরবর্তী অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে ইতোমধ্যে অবহিত করেছেন। অনুমোদন পেলে কাজ করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, দৌলতদিয়া এলাকার নদী ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে ফেরিঘাট, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং শত শত পরিবারের বসতভিটা হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই দ্রুত নদী শাসন ও তীর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সূত্র- ঢাকা পোষ্ট

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech