।।বিকে রিপোর্ট।।
ইন্ডিয়ান ওশেন রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ) সম্মেলনে সরকারি সফরে যোগ দিতে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান নয়াদিল্লির বিমানবন্দর থেকে ফেরত আসছেন।
রবিবার ১৪ জুন তিনি ঢাকা থেকে দিল্লি গিয়েছিলেন। আগাম অবহিত করার পরও ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে ক্ষোভ দেখিয়ে তিনি দেশে ফেরত আসছেন।
দিল্লি বিমানবন্দরে বাংলাদেশের তথ্য উপদেষ্টাকে ঘিরে এমন একটি ঘটনার সংবাদ দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটটিন।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ডা. জাহেদ। সরকারি সফরে সেখানে পৌঁছানোর পর দেশটির ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা দীর্ঘক্ষণ কথা বলায় একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে সফর বাতিল করে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
উল্লেখ্য, আজ সোমবার থেকে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তথ্য উপদেষ্টার।
জানা গেছে, ওই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে উপদেষ্টার অংশগ্রহণের বিষয়ে গত শুক্রবার দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল। কিন্তু সন্ধ্যায় দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাকে রহস্যজনক কারণে ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখে। তাকে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়টিও স্পষ্ট করেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উপদেষ্টা একটি সরকারি বৈঠকে যোগ দিতে একটি প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে ভারতে এসেছিলেন। তখন রুটিন তল্লাশির সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তার নামটি শনাক্ত করেন। পরে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তাকে আটকে রাখা হয়।
নিউজ এইটটিন বলছে, স্পষ্টতই একটি প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যম সংক্রান্ত একটি ‘কালো তালিকা’ থেকে জাহেদ উর রহমানের নাম আগেই সরিয়ে ফেলা হলেও অভিযোগ রয়েছে, তা ইমিগ্রেশনের তালিকায় রয়ে গিয়েছিল। যে কারণে তিনি পৌঁছানোর পরই সতর্কতা তৈরি হয়।
পরে এই অসঙ্গতি শনাক্ত ও সমাধান করার পর কর্মকর্তারা তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেন।
এমন পরিস্থিতিকে জাহেদ উর রহমান দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। এক পর্যায়ে উপদেষ্টা বিরক্ত হয়ে পাসপোর্ট ফেরত চান এবং ফেরত পানও। পরের ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় ফেরার প্রস্তুতি নেন। পরে যদিও ভারতীয় ইমিগ্রেশন তাকে সসম্মানে প্রবেশের অনুরোধ করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল যখন দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগের খবর আসছিল।
উপদেষ্টার ঘণিষ্ঠ সূত্রের বরাতে দেশের এক দৈনিক পত্রিকা এর অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লি বিমানবন্দর থেকেই তিনি অন্য দেশ হয়ে বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। রাত ১টায় উপদেষ্টা দেশের পথে ছিলেন। ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের আচরণ যথাযথ না হওয়ায়, উপদেষ্টা ভারতে প্রবেশে অস্বীকৃতি জানান বলে ওই খবরে বলা হয়।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে রাতেই কলম্বো হয়ে তার দেশে ফেরার খবর দিয়েছে প্রথম আলো। দিল্লি সময় রাত ১২টা ৩০ মিনিটের ফ্লাইটে দিল্লি থেকে কলম্বোর উদ্দেশে রওনা করেন তথ্য উপদেষ্টা। সোমবার সকালে তিনি কলম্বো থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।সব ঠিক থাকলে আজ দুপুরের আগেই তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।